ময়মনসিংহ বিভাগবাসী বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঘটবে জন আশা-আকাঙ্ক্ষার সেই প্রতিফলন। থামবে সব জল্পনা-কল্পনা।
এদিন বিকেল ৪টায় নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথ। কারা শপথ নিচ্ছেন তা ইতোমধ্যে আগেই গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ঐতিহাসিক সরকারে তিনজন মন্ত্রী হবেন বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র সোমবার রাত পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির ফলাফলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগ থেকে চারজনকেও রাখা হতে পারে নয়া মন্ত্রিসভায়। সেক্ষেত্রে ময়মনসিংহের দুই সংসদ সদস্যের যে কেউ হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী। তারা হলেন—ময়মনসিংহ সদর আসনের এমপি মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও ঈশ্বরগঞ্জ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে দায়িত্বশীল সূত্র।
ময়মনসিংহ বিভাগের ২৩ আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বাকি পাঁচটির মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী, একটিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন৷ শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মারা যাওয়ার কারণে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিভাগে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতার মন্ত্রীত্ব অনেকটাই কনফার্ম বলে জানা গেছে। বিএনপিতে তাদের অবদান প্রবীণ কোনো নেতার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তারা হেলন- নেত্রকোণা-৪ আসনের এমপি মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, নেত্রকোণা-১ আসনের এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও জামালপুর-৫ আসনের এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মো. লুৎফুজ্জামান বাবর
নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) আসন থেকে মো. লুৎফুজ্জামান বাবর রেকর্ড ভোটে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৬১ ভোট বেশি পান। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আল হেলাল পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৮৪০ ভোট। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বিএনপিতে ত্যাগী এবং তারেক রহমানের বিশ্বস্থদের একজন। গোয়েন্দা সংস্থার অব্যাহত চাপ ও প্রলোভনে পড়েও তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আপস করেননি। এ কারণে দীর্ঘ দেড় যুগের কাছাকাছি তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়েছেন। ১১ দল মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানী পান ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ উদ্যোগে এলাকায় সড়ক ও সেতু নির্মাণের পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করে বেশ সুনাম অর্জন করেন। সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্টে নেত্রকোণা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার মানুষকে আইনি সহায়তা প্রদান করে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এর আগেও দুইবার ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের কারচুপির কারণে হেরে যান। এই প্রথম তিনি জয়ের মুখ দেখলেন।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ৭৫ হাজার ৭৮৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৮ ভোট পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭৮৩ ভোট। রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ। বিএনপিতে তিনি ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। তাকে মন্ত্রীত্ব প্রদানের দাবি তোলেছেন দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জের আপামর জনতা।
মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বড় জেলা এবং অনেক আসনের কারণে এখান থেকে মন্ত্রীর দাবি উঠেছে। এ কারণেই সদর থেকে ওয়াহাব আকন্দকে প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে।
ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তিনি ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়েছেন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এলডিপির অ্যাডভোকেট আওরঙ্গজেব বেলাল পান ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট। ব্যবসায়ী মাজেদ বাবু বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারী। দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কাজের সঙ্গে থেকে ঈশ্বরগঞ্জে বিএনপিকে সুসংগঠিত করেন।
অপরদিকে মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি দক্ষ, তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য থাকবে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেকের নাম আলোচনায়। অপেক্ষাকৃত বিতর্ক কম ছিল—এমন ব্যক্তিদের কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন।
সূত্র মতে, মন্ত্রিসভা খুব বড় হবে না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কলেবর অনেকটাই বড় হতে পারে। একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা অন্য কোনো নামে গ্রহণযোগ্য অনেককে যুক্ত করা হতে পারে।
কেকে/এজে