মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
কথা রেখেছেন চা শ্রমিকরা, এবার এমপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের ৬৫টি চা-বাগানের শ্রমিকরা তাদের কথা রেখেছেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময় তারা ধানের শীষের প্রার্থীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চা-বাগানের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের আশ্বাস পেলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেবেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটের মাঠে। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র একবার বিএনপির প্রার্থী শফিকুর রহমান এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী দ্বিতীয়বার জয়লাভ করতে পারেননি। এবারের নির্বাচনে দৃশ্যপট বদলে যায়। চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত এ জনপদে ধানের শীষের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) সিলেট বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, সংসদীয় ভোট, গণভোট ও পোস্টাল ভোটে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে হাজী মুজিব পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। ফলে হাজী মুজিব ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. ইলিয়াস এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ সালের জুন, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. আব্দুস শহীদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মো. আহাদ মিয়া এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির শফিকুর রহমান একবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চা-বাগানগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটের হার ছিল শূন্যের কোঠায়।

দীর্ঘদিন ধরে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকার পেছনে সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকদের ‘ভোটব্যাংক’ বড় ভূমিকা ছিল। চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের নৌকার ভোটার ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় সেই সমীকরণ বদলে গেছে।

এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হাজী মুজিব নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন। এমন আশ্বাস পেয়েই দুই উপজেলার ৬৫টি চা-বাগানের শ্রমিকরা এবার ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছেন।

চা শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা বঞ্চনার শিকার। রেশন, মজুরি ও মৌলিক সুবিধা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই নিজস্ব জমির মালিকানা, টেকসই কর্মসংস্থান, কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, মজুরি বৃদ্ধি, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাধারণ চা শ্রমিকরা জানান, আগেও তারা ভোট দিয়েছেন, কিন্তু এবার প্রার্থীর লোকজন তাদের কাছে নানা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই তারা আস্থা রেখে এবার ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন।

শ্রমিকরা বলেন, আমাদের চা-বাগানের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নের আশ্বাস এবার বাস্তবে প্রতিফলন দেখতে চাই। চা শ্রমিকরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখার প্রত্যাশার কথাও জানান। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান ও সার্বিক উন্নয়নে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন চান দুই উপজেলার সব চা-বাগানের শ্রমিকরা।

এদিকে ভোটের দিন সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গলে ৪২টি এবং কমলগঞ্জের ২৩টি চা-বাগানে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন শ্রমিকরা। নিজেদের অধিকার ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ এই ভোটদানই প্রমাণ করে, চা শ্রমিকরা এবার সত্যিই তাদের কথা রেখেছেন।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন পর শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জবাসী জাতীয়তাবাদী দলের একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য পাওয়ায় চা-শ্রমিকসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের উন্নয়ন ও পর্যটনের জনপদ হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গলের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে মানুষের আকাঙ্ক্ষা এখন তুঙ্গে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ—এ দুই উপজেলাই দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় সারা বছর এখানে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থাকে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেকে এখানে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। ফলে মৌলভীবাজার জেলার প্রবেশদ্বার ও চায়ের রাজধানীখ্যাত এই দুই উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে দ্রুত পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান নির্বাচনি আসনের বাসিন্দারা।

সচেতন মহলের দাবি, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল শহর বাইপাস সড়ক দ্রুত বাস্তবায়ন, অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিসিক শিল্পনগরী চালু করা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শ্রীমঙ্গল গড়ে তুলতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) জয়ী হওয়ার পর দুই উপজেলার চা শ্রমিকসহ জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন। দুই উপজেলা শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় মাঠে নেমে কার্যক্রম শুরু করেন, যা সচেতন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

নতুন সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “আমার প্রথম নজর থাকবে এই অঞ্চলের অবহেলিত চা শ্রমিকদের দিকে। বিএনপি সরকার গঠনের পরই আমি চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা ও তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ শুরু করব। একই সঙ্গে আমার নির্বাচনি এলাকা যেহেতু পর্যটন নগরী, এখানে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক ঘুরতে আসেন। ফলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান কাজ হবে।”

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যেসব ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছিলাম, সেগুলো এখন সরিয়ে ফেলা আমাদের দায়িত্ব। তাই আমি নিজ হাতে অপসারণ করছি।’

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:   প্রতিশ্রুতি   বাস্তবায়ন   দাবি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close