রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী ঘাগট নদী এখন নাব্যতা সংকটে ধুঁকছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীর অধিকাংশ স্থানে পানি না থাকায় নদীর বুকে শুরু হয়েছে চাষাবাদ। এতে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘাগট নদীর উৎপত্তি নীলফামারী জেলার কুঠিপাড়া এলাকার কাছে তিস্তা নদী থেকে। সেখান থেকে নদীটি রংপুরের গঙ্গাচড়া, পীরগাছা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে গাইবান্ধার দিকে প্রবাহিত হয়েছে। একসময় এই নদীপথে নৌকা চলাচল, মাছ ধরা ও সেচ কার্যক্রম ছিল নিয়মিত চিত্র।
বর্তমানে গঙ্গাচড়ার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা গেছে, নদীর তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির গভীরতা কমে গেছে। অনেক স্থানে হাঁটু পানি, আবার কোথাও সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে নদী। শুকনো অংশে স্থানীয়রা ভুট্টা, ধান ও বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন।
বেতগাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আগে বর্ষা এলে নদী ভরে যেত, নৌকা চলত। এখন নদীর মাঝখানে মানুষ ধান চাষ করছে। বর্ষা ছাড়া নদী চিনতেই পারা যায় না।”
বড়বিল ইউনিয়নের জেলে বাবুল দাস জানান, “নদীতে পানি না থাকায় মাছও নেই। আগের মতো জাল ফেলতে পারি না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।”
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়া, উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং অবৈধ দখলের কারণে নদীর এই করুণ অবস্থা। তারা দ্রুত খনন কার্যক্রম গ্রহণ ও নদী রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঘাগট নদী তার স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারাতে পারে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত ড্রেজিং, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গঙ্গাচড়ার সচেতন মহল।
কেকে/এলএ