বগুড়ার শেরপুর উপজেলার নিভৃত গ্রামগুলোতে এখন বিদেশের সুবাস। ছন আর তালপাতার নিপুণ কারুকাজে তৈরি ঝুড়ি, বাটি, ডালা আর পাটি এখন ইউরোপ-আমেরিকার ড্রয়িংরুমের শোভা বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে যে কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় এই পণ্যগুলো বিশ্ববাজার জয় করছে, তাদের ঘরেই এখন অভাব আর বঞ্চনার হাহাকার।
বকেয়া বেতন ও নানা অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে টানা দুই দিন ধরে আন্দোলনে নেমেছেন শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া গ্রামের ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ড মেড প্রোডাক্ট বিডি লিমিটেড’-এর কয়েকশ শ্রমিক।
হাপুনিয়া গ্রামে গেলে চোখে পড়ে এক কর্মযজ্ঞের দৃশ্য। প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় নারীরা নিপুণ হাতে সুই-সুতা আর ছন-তালপাতা দিয়ে তৈরি করছেন নান্দনিক সব শোপিস। এই হস্তশিল্পের চাহিদা এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ধনী দেশগুলোতে। এসব পণ্য রপ্তানি করে আসছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা পাল্টে দিয়েছে স্থানীয় অর্থনৈতিক চিত্র। অনেক নারীই এখন এই কাজ করে অভাব দূর করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন।
তবে এই অভাবনীয় সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে শ্রমিকদের দীর্ঘশ্বাস। হাপুনিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ড মেড প্রোডাক্ট বিডি লিমিটেড’-এর শ্রমিকরা গত দুই দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। তাদের অভিযোগ, কঠোর পরিশ্রম করলেও ন্যায্য মজুরি ও সম্মান থেকে তারা বঞ্চিত।
কারখানার কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর রাসেল, নয়ন ও রবিন ক্ষোভের সাথে বলেন, শুরুতে ছেলেদের বেতন ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে ফিনিশিং সেকশনের জিয়া, মিরাজুল, ফরহাদ ও শরিফল বলেন, আমাদের সামান্য বেতনটুকুও সময়মতো দেওয়া হয় না। এক মাসের বেতন অন্য মাসে, এমনকি দুই মাস পর দেওয়া হয়। আমরা চলব কী করে?
শ্রমিকদের বড় একটি অভিযোগ মজুরি কমিয়ে দেওয়া নিয়ে। জিন্নু, রেজিয়া ও রিনা বলেন, কাজের ডালা প্রতি আগে আমাদের ৫০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এখন তা কমিয়ে ২০০-৩০০ টাকা করা হয়েছে। আমরা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছি। প্রতিবাদ করলেই কথা নেই বার্তা নেই ছাঁটাই করা হয়।
আন্দোলনের মুখে ‘ক্লাসিক্যাল হ্যান্ড মেড প্রোডাক্ট বিডি লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের প্রোডাকশন ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন কিছুটা নমনীয় সুরে বলেন, বেতন দিতে কিছুটা দেরি হয় ঠিকই, তবে মাত্র একবারই দুই মাসের বেতন বকেয়া হয়েছিল। কোম্পানির বর্তমান সমস্যার কারণে এবার বেতন বাড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে এমডি স্যারের সাথে আলোচনা করছি।
কেকে/বি