মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্কে মাছ ধরাবন্ধ, জেলেদের মানবেতর জীবন
সেখ সাকির হোসেন, বাগেরহাট
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

সুন্দরবনে বনদস্যুদের একের পর এক মুক্তিপণ ও অপহরণ আতঙ্কে মাছ ধরাবন্ধ করে দিয়েছে জেলেরা। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। দ্রুত বনদস্যু মুক্ত না হলে বন বিভাগ হারাবে রাজস্ব ও বেকার হয়ে পড়বে উপকুলীয় জেলে ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। 
 
এদিকে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে বনদস্যু আতঙ্কে দুবলারচরের শুটকি পল্লীর দশ সহস্রাধিক জেলে সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। 
 
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অপহৃত ২০ জেলের সন্ধান মেলেনি দুই দিনেও। বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছেন। 
   
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুবলার আলোরকোল থেকে মুঠোফোনে বলেন, ‘সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলা চরের দশ সহস্রাধিক জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছে এবং মৌসুমের শেষে এসে তারা কী নিয়ে বাড়ি যাবেন সে চিন্তায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা।’

অপরদিকে গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে।

আলোর কোলে অবস্থানরত রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে প্রবাদ ছিলো জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কম পক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে।’
 
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলে পল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, ‘দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় তাদের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।’
  
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘বনদস্যু আতংকে তাদের স্টেশন অফিস থেকে কোন জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস(অনুমতি) নিচ্ছেন না। যার ফলে মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরণের প্রভাব পড়ছে।’
 
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবনে বন দস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।’
 
কেকে/এসএএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  সুন্দরবন    বনদস্যু্    জেলে  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close