নিজ বাসা থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন নার্সের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কোতোয়ালী থানার পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত নারীর নাম সাদিয়া আফরিন (৪০)। তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকায় আফরোজা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টার পর থেকে সাদিয়া আফরিন নিজ বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাই আশরাফ স্মরণ বাসায় এসে দরজায় ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত প্রায় পৌনে ৮টার দিকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। ঘরে ঢুকে শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাদিয়া আফরিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা।
এসময় বিষয়টি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জানানো হয় এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
কেকে/বি