সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এবার খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ অঞ্চলের খিরার চাহিদা সারাদেশেই রয়েছে। খিরার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন, ফলে তাদের মুখে হাসি।
চলতি মৌসুমে উপজেলায় সাড়ে ৪২৭ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৫ হেক্টর বেশি। প্রতিদিন খিরাকে কেন্দ্র করে তাড়াশ উপজেলার দিঘরীয়া, রানীরহাটসহ বিভিন্ন বাজারে গড়ে উঠেছে খিরার মৌসুমি হাট। এ হাটে ঢাকা, বগুড়া সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে খিরা কিনে নিয়ে যান। প্রতিমণ খিরা ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার বারুহাস গ্রামের কৃষক আনসার উদ্দিন বলেন, “এ বছর আমি তিন বিঘা জমিতে খিরার চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দর ভালো থাকলে খরচ বাদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।”
উপজেলার দিঘরীয়া গ্রামের কৃষক মজনু বলেন, “ধান চাষের পাশাপাশি এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে খিরা চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১০০–১২০ মণ ফলন হবে। বর্তমান বাজারে প্রতি বস্তা খিরা ৩ হাজার ১৫০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজার দর এ রকম থাকলে আড়াই বিঘা জমিতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ হবে।”
চলনবিলের তাড়াশের দিঘরীয়া, রানীরহাট ও কোহিতসহ ১৫টি গ্রামে গড়ে উঠেছে খিরা বিক্রির অস্থায়ী আড়ৎ। উপজেলার কোহিত, সাচানদিঘি, সান্দুরিয়া, সড়াবাড়ি, বারুহাস, দিঘুরিয়া, দিয়ারপাড়া, তালম সাতপাড়া, নামো সিলট, খাসপাড়া, বড় পওতা, তেঁতুলিয়া, ক্ষীরপোতা, খোসালপুর, বরগ্রাম, বিয়াস আয়েস, পিপুলসোন গ্রামে মাঠের পর মাঠ খিরার আবাদ হয়েছে।
অনেক কৃষক নিজের জমি না থাকায় লিজ নিয়ে খিরার আবাদ করেন। দিঘরীয়া এলাকায় বসা বড় খিরার আড়তে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা খিরা বিক্রি করতে আসেন। এ আড়ৎ থেকে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা ট্রাকে খিরা কিনে নিয়ে যান। এলাকার খিরা সাধারণত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে। প্রতিদিন শত শত মেট্রিক টন খিরা বেচা-কেনা হয়। তাড়াশে উৎপাদিত খিরা শুধু রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন ৪৫–৫০ মেট্রিক টন যাচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা (অতিরিক্ত) কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হযরত আলী বলেন, “উপজেলার ফসলী জমিতে খিরা চাষ খুব ভালো হয়। কৃষি অফিসের লোকজন সার্বক্ষণিক কৃষকদের খিরা চাষে উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। খিরা চাষে কৃষকরা অন্যান্য কৃষি দ্রব্যের তুলনায় ভালো লাভবান হতে পারেন।”
কেকে/এলএ