কিশোরগঞ্জে নাইস ট্রাভেলস পরিবহন নামে একটি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ঘটনার পর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২১ ফ্রেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার বৌলাই নাকভাঙ্গা বাইপাস মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার ইসলাপুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল (৪০) ও নীলফামারী জেলার নিমডা উপজেলার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. সিকান্দার (৫০)। বাকি দুইজনকে নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, শনিবার সকালে করিমগঞ্জের চামটাঘাট থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বৌলাই নাকভাঙ্গা বাইপাস মোড়ে পৌঁছাতে বিপরীত দিক থেকে আসা নাইস ট্রাভেলস পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং সিএনজির চালকসহ চারজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে দুইজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে ঘটনায় পরপরই উত্তেজিত হয়ে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ফলে যানযটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। পরে ঘটনাস্থলে পুালিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী মোবারক হোসনে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সিএনজিতে থাকা চারজন সবাই গুরুতর আহত হয়। আমরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, সিএনজি চালকসহ চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আনা সবার অবস্থা গুরুতর। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা জানান, দুর্ঘটনা কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন শেষে সিএনজি ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ