নদী ও ফসলী জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে সেটা মানছে না অলিখিত মাটি খেকো গড ফাদার রুবেল। রাত যত গভীর হয়, ততই তার সহযোগী সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় শব্দ ও বায়ু দূষণের কারণে ময়নামতি ইউনিয়নের ৫–৬ গ্রামের শত শত পরিবার বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে।
এছাড়াও গ্রামীণ জনপদের রাস্তাগুলোও ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় দেবপুর ফাঁড়ির পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও পাচ্ছে না।
সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে গোমতীর চর থেকে মাটি ও নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু তবুও থেমে নেই মাটি কাটা। অভিযোগ রয়েছে, ময়নামতি এলাকার রুবেল নামের এক মাটি খেকো সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাখ লাখ ঘনফুট মাটি কেটে বিক্রি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ময়নামতি এলাকার বাজেবাহের চর গোমতীর প্রতিরক্ষা বাঁধে সংস্কার কাজ চলমান, আর সেই কাজে স্থানীয় মাটি খেকো রুবেল তার ড্রাম্পট্রাক ও এস্কেভেটর ভাড়ায় খাটাচ্ছে ঠিকাদারের কাছে।
আর এই সুযোগে রাতে শত শত ট্রাক মাটি কেটে, বাঁধের সংস্কারের ফাঁকে অন্যত্র, বিশেষ করে বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছে। এছাড়াও ময়নামতি ইউনিয়নের হরিনধরা ও মইনপুর এলাকার ফসলী জমির মাটিও অবাধে কাটা হচ্ছে। মাটি ভারী ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে নেওয়ায় গ্রামীণ জনপদের রাস্তাগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কখনো সন্ধ্যার পর, কখনো রাত বাড়ার সাথে সাথে মাটি কাটা শুরু হয়, যা সকাল ৬টা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলতে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হরিনধরা ও সিন্দুরিয়াপাড়ার একাধিক সূত্র জানায়, সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতারসহ তারাবির নামাজ পড়ে বিশ্রামের চেষ্টা করলেও গাড়ির প্রচণ্ড শব্দে সারারাত জেগে থাকতে হয়। বাতাসে বালুর ছড়াছড়িতে অনেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে শিশুরা।
মাটি খেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় হরিনধরার লঘু সম্প্রদায়ের একাধিক লোক এই প্রতিবেদককে নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, আমরা স্থানীয় প্রশাসন (দেবপুর ফাঁড়ির আইসি) কে রাতভর মাটি পরিবহনের দুর্ভোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, রুবেল বিগত সময়ে আ'লীগের পরিচয়ে সুবিধা নিয়ে মাটি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে। একাধিক সূত্রে ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শুক্রবার গভীর রাতে কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবপুরসহ আশপাশের এলাকায় সরেজমিন ঘুরে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে দেবপুর ফাঁড়ির আইসিকে বিষয়টি জানালে তিনি জানিয়েছেন, ভ্রাম্যমান আদালত পুলিশের সাহায্য চাইলে আমরা সাহায্য করবো।
একইভাবে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও বলেন, “প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা চাইলে সহযোগিতা করবো।”
এদিকে, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন বলেন, “আপনার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হলাম। এ বিষয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
কেকে/এলএ