কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে রাতের আঁধারে সৌদি প্রবাসী এক কৃষকের শতাধিক মেহগনি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রোববার (২২ ফ্রেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে করিমগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর নিয়ামতপুর রৌহা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রবাসী মহসিন শতাধিক মেহগনি গাছের গুঁড়িসহ ডাল-পালা কেটে রেখে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এর আগে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কৃষকের নাম মোহাম্মদ মহসিন মিয়া। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর নিয়ামতপুর রৌহা গ্রামের বাসিন্দা। মোহাম্মদ মহসিন মিয়া প্রায় ২৭ বছর ধরে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানায়, জমিতে লাগানো শতাধিক মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভোররাতের দিকে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ফজর নামাজের পর মেহগনি গাছের বাগান দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা দেখতে পান সব গাছ কে বা কারা কেটে ফেলে রেখে যায়। জমিতে একটি গাছও অক্ষত নেই দেখে কয়েকজন লোক প্রবাসী মোহাম্মদ মহসিন মিয়ার স্ত্রী নিলুফা আক্তারকে খবর দেন।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মহসিন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন। তার সঙ্গে কারও শত্রুতার কথা তারা শোনেননি। তবে ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে এটা শত্রুতামূলক করা হয়েছে। যারা তার এই ক্ষতি করেছেন তারা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক কাজ করেছেন। যারা এই অন্যায় করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই আমরা।
প্রবাসী মহসিন মিয়ার স্ত্রী নিলুফা আক্তার বলেন, আমার জানামতে আমাদের কারও সঙ্গে শত্রুতা নেই। যদি অজান্তে থেকেও থাকে, তাহলে গাছের সঙ্গে তা কেন মেটালো? বিবেক কতটুকু নিচে গেলে গাছের সঙ্গে এমন শত্রুতা করতে পারে? অনেক টাকা, শ্রম, সময় ব্যয় করে বাগানটি করেছিলাম যা এক রাতেই শেষ করে দিল। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবিরের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, এখনও থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/বি