নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কৈমারী হাট-বাজারে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টোল ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কৈমারী হাটে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করছেন ইজারাদারের লোকজন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি পণ্য কেনাবেচায় রশিদের অংকের বাইরেও অতিরিক্ত ‘চাঁদা’ দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গরুর ক্ষেত্রে সরকারি চার্টে ৫০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ক্রেতার কাছ থেকে ৭০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা চাঁদাসহ মোট ৯০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ছাগলের ক্ষেত্রে ১৫০ টাকার পরিবর্তে ক্রেতা-বিক্রেতা মিলিয়ে মোট ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। হাঁস-মুরগি ও কবুতর, ২০টি পাখির জন্য ১০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও এখন প্রতিটি পাখির জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ১০ টাকা করে মোট ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
মাংসের দোকানে প্রতিদিন ৫০ টাকা এবং মাছের দোকানে হাটের দিন ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। আগে এসব দোকানে ১০-২০ টাকা নেওয়া হলেও এখন তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
মাছ ব্যবসায়ী হাফিজ ও সম্বারু আক্ষেপ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, সামান্য পুঁজিতে ব্যবসায় করি। আগে ১০-২০ টাকা টোল দিলেও এখন আমাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত টোল দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গরু ক্রেতা মাজেদুল ও ছাগল ক্রেতা মেনাজ জানান, রশিদের অংকের বাইরেও তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০-২০০ টাকা চাঁদা হিসেবে আদায় করা হয়েছে।
তাদের প্রশ্ন, ইজারাদাররা রশিদ দিয়ে টাকা নিবে সেটা স্বাভাবিক, কিন্তু রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত চাঁদা নেওয়ার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তামাকের মণ প্রতি ২০ টাকার স্থলে ৪০ টাকা এবং আসবাবপত্র ও কাঁচাবাজার থেকেও অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা তোলা হচ্ছে।
এদিকে একই চিত্র লক্ষ করা গেছে অন্যান্য হাট-বাজারগুলোতেও।
এসব বন্ধের জন্য জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিনকে লিখিত অভিযোগ দেন কৈমারী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মামনুর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, শ্রমিক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।
অভিযোগের অনুলিপি নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও রংপুরের বিভাগীয় কমিশনারকেও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বর্তমান সরকারের দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কেকে/এমএ