সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বেপরোয়া চাঁদাবাজরা
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ এএম আপডেট: ২৩.০২.২০২৬ ৯:০১ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চাঁদাবাজির ঘটনা। কোথাও চাঁদা না দেওয়ায় হত্যার হুমকি, কোথাও চাঁদার দাবিতে সশস্ত্র হামলা, আবার কোথাও ব্যবসায়ী কিংবা হাসপাতাল পরিচালকের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছে দুষ্কৃতিকারীরা। শিল্পকারখানার মালিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এমনকি সাধারণ মানুষও তাদের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ফলে এ নিয়ে জনমনে ভীতি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চাঁদাবাজি এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। রাজধানীর আদাবরে একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করেছে একদল সন্ত্রাসী। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে জেলা শহরগুলোতেও। ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে লাখ লাখ টাকা ‘চাঁদা’ দিতে হবে— এমন হুমকি দিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল পরিচালকের কাছেও দাবি করা হয়েছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। আর এসব ঘটনার নেপথ্যে জড়িত রয়েছে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী।

অভিযোগ রয়েছে— এ চাঁদাবাজরা কখনো আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটাচ্ছে। সুযোগ বুঝে তারা রাজনৈতিক পরিচয় বদলে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখছে।

দেশজুড়ে চাঁদাবাজির এমন ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যে তৎপর থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, প্রতিটি ঘটনায় মামলা হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেছেন, যে কোনো মূল্যে স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা মাদকসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকলে দলমত-নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের সব ইউনিট প্রধান, মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ নির্দেশনা দেন আইজিপি।

চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা

রাজধানীর আদাবরে একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় স্থানীয় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে কুপিয়ে আহত করে।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেড় শতাধিক লোক হামলার বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মূল অভিযুক্ত রাসেল, তার সহযোগী মারুফ ও হাসান। মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একই দিনে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় একাধিক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করে সড়কে ঘুরিয়েছে পুলিশ। এ সময় মোহাম্মদপুর থানার ওসি মাইকিং করে ‘চাঁদাবাজ ধরা হয়েছে’ খবর দিয়ে কাউকে চাঁদা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রোববার বিকালে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক ওরফে কালা ফারুক নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় একাধিক ব্যবসায়ীকে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি ঘটনার সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ফারুক আত্মগোপনে যান। সমালোচনার মুখে কেরানীগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সহকারী কমিশনার মামুন বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি দিচ্ছিল ফারুক ও তার সহযোগীরা। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী অভিযোগ দিলে তাকে গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করে পুলিশ।’

ফারুক ওই এলাকার ‘চিহ্নিত চাঁদাবাজ’ মন্তব্য করে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় আমরা মাইকিং করেছি। এর মাধ্যমে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বার্তা দিতে চাই। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

গ্রেপ্তারের পর ফারুককে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরেন পুলিশ সদস্যরা।

এ সময় হ্যান্ডমাইকে মোহাম্মদপুরের ওসি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘চাঁদাবাজকে ধরেছি। আপনারা কাউকে চাঁদা দেবেন না। কেউ চাঁদা চাইতে এলে ধরে আমাদের খবর দেবেন।’

ব্যবসায়ীকে ঘেরাও করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি 

চট্টগ্রাম নগরীতে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আহমেদ কবির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলশী থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম।

মামলা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে খুলশী থানার গরীবউল্ল্যাহ হাউজিং সোসাইটির ডেবারপাড় এলাকায় মোহাম্মদ সিরাজ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আহমেদ কবির। সিরাজ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জায়গা-জমি বিক্রিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন।

২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি তাঁতিদল নেতার 

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ফুলহর এলাকার একটি হাসপাতালের পরিচালকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তাঁতিদল নেতাসহ ছয়জনের নামে মামলা করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মদনপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক মিতু আক্তার বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন— মদনপুর ফুলহর এলাকার শহিদুল্লাহ পাইসার ছেলে এসএম মোমেন (৫০), মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মো. শফিউল্লাহ (৪০), হাবিব উল্লাহর ছেলে এসএম বিল্লাল ওরফে টোকাই বিল্লাল (২২), জাহেরুল্লাহর ছেলে দ্বিপ হোসেন (২৮), আলাল হোসেনের ছেলে আরাফাত (১৮) ও রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে সুজন (১৯)। তাদের মধ্যে এসএম মোমেন বর্তমানে মহানগর তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে মহানগর তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মোমেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো রকম সম্পৃক্ততা নেই।’

এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, চাঁদা দাবির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:   চাঁদাবাজ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close