সম্প্রতি রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের পাশে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নে ইয়াবা জব্দের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় এক চৌকিদারের বিরুদ্ধে জব্দকৃত ইয়াবা গোপন করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের পাশের দোছড়ি ইউনিয়ন এলাকা থেকে স্থানীয় ইউনিয়নের চৌকিদার বক্কর চোরাকারবারিদের কাছ থেকে এক বান্ডিল ইয়াবা জব্দ করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে তার হাতে প্যাকেট করা একটি বান্ডিল দেখা গেলেও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় প্রেরণের সময় ২ হাজার পিস ইয়াবা দেখানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পার্বত্য বান্দরবান জেলার দোছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বক্করের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে চোরাচালান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল। সাম্প্রতিক ইয়াবা আটকের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘ইয়াবা লুট’ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইয়াবার একটি চালান আটকের পর চৌকিদার বক্কর তা নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। অভিযোগ করা হয়, একটি বান্ডিলে (স্থানীয় ভাষায় এক কাট) ১০ হাজার পিস ইয়াবা থাকার কথা থাকলেও সেখান থেকে ৮ হাজারের বেশি পিস সরিয়ে রেখে অবশিষ্ট প্রায় ২ হাজার পিস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্য এবং একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিডিও ধারণ করেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি ইয়াবার বান্ডিল হাতে নিয়ে অভিযুক্ত চৌকিদার বক্কর নিজেকে পুলিশের ওসির পদমর্যাদার সমতুল্য দাবি করে হুমকি দিচ্ছেন—এমন বক্তব্য শোনা যায়।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা হলে তারা অভিযোগ করেন, আটকের পর ইয়াবা বসতঘরে নেওয়া এবং পরবর্তীতে পরিমাণ কম দেখিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা জব্দকৃত আলামত আত্মসাৎ করা গুরুতর অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
তবে অভিযুক্ত চৌকিদার বক্কর তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কেকে/ এমএস