মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে শহরবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৪ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহর যানজটে রীতিমতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপ বাড়লে ভানুগাছ রোডেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।  

বিশেষ করে হবিগঞ্জ রোডে প্রায় সারাদিনই যানবাহনের ধীরগতি ও যানজট লেগেই থাকে। পাশাপাশি স্টেশন রোড ও মৌলভীবাজার রোডে নিয়মিত যানজট দেখা যায়।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলোতে যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। অনেক সময় কয়েকশ মিটার পথ পাড়ি দিতে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে এবং মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের দাবি যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনভোগান্তি লাঘব করা। 

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হবিগঞ্জ রোড, মৌলভীবাজার রোড এবং স্টেশন রোডসহ শহরের প্রতিটি মোড়ে নিত্যদিন তীব্র যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হচ্ছে- অপরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ড, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল, ভ্রাম্যমাণ দোকান, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিক্সা ও টমটমের সীমাহীন দৌরাত্ম্য এবং ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এসব অটোরিকশা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। কোথাও কোনো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা নিয়ম মানা হচ্ছে না। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানোর ফলে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও ফুটপাতে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানোর কারণে যানজট আরও বাড়ছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে হাঁটছেন, এতে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।’ 

স্থানীয়রা বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।’ 

ব্যবসায়ী খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন সড়কে টমটম, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার সীমাহীন দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগে শহরের অলিতে-গলিতে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব যান চলাচল করলেও এখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ শহরেও তাদের দাপট। ট্রাফিক পুলিশকেও এ বিষয়ে তেমন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।’ 

শহরের আরেক দোকানদার সোহান মিয়া বলেন, ‘আমার দোকানের সামনেই প্রতিদিন তীব্র যানজট দেখা যায়, নিত্যদিনের ভয়াবহ যানজটে লোকজন বিরক্ত হন। ধোঁয়া, শব্দ আর গরমে ব্যবসা করাই কষ্টকর হয়ে গেছে।’ 

শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, ‘শহরে অটোরিকশাগুলোর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা রাস্তার মাঝখানেই ব্রেক দিয়ে যাত্রী উঠা নামানো করে। প্রতিদিনই হবিগঞ্জ সড়কে যানজট লেগেই থাকে। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের।’

শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, ক্লাস ধরার জন্য সময় নিয়ে বের হলেও যানজটে আটকে দেরি হয়ে যায়। পরীক্ষার দিনগুলোতে আরও বেশি সমস্যা হয়। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ‘শহরের যানজট নিরসনে শ্রীমঙ্গলে বাইপাস সড়ক নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। সড়কটির দৈর্ঘ্য হবে ৬.২ কিলোমিটার, প্রস্থ ১০.৩ মিটার। রোড ডিভাইডারসহ ৬.২ কিলোমিটারের মধ্যে ১১টি কালভার্ট, ১টি ব্রিজ ও ল্যাম্ব পোস্ট থাকবে। শ্রীমঙ্গলের সকিনা সিএনজি পাম্পের উত্তর পাশ হয়ে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কের কারিতাস কারিগরি কেন্দ্রের পাশে যুক্ত হবে। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৫ কোটি টাকা।’ 

ট্রাফিক পুলিশ জানায়, ‘শহর যানজটমুক্ত রাখতে ট্রাফিক বিভাগ সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে একা যানজট নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না।’ 

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর প্রশাসক ও ইউএনও স্যারের নির্দেশে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি।’ 

শ্রীমঙ্গল ট্রাফিক সার্জেন্ট (টিআই) হাসান আল মামুন বলেন, ‘দেশের অন্যান্য জায়গায় মহাসড়কে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চলতে না দেওয়ায় এই রিকশাগুলো শ্রীমঙ্গলে চলে এসেছে। এগুলো শহরে চলাচলের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও পর্যটন নগরী হওয়ায় অনেক পর্যটক তাদের গাড়ি রাস্তার পাশে দাড় করিয়ে জিনিসপত্র কিনেন। সেই কারণেও যানজট হয়, শহরের সেন্ট্রাল সড়কে মালবাহী ট্রাক ও পিকআপগুলো হবিগঞ্জ সড়ক থেকে সেন্ট্রাল রোডে ঢুকার সময় রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে করেও যানজট হয়। আমরা আমাদের ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করি যানজট নিরসনে। কিন্তু এখানে অনেক কিছু আমাদের দায়িত্বের বাহিরে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন জানায়, ‘শ্রীমঙ্গল শহরটি মৌলভীবাজার জেলার আগমন ও প্রস্থানের গেটওয়ে। শহরের মূল সড়কগুলো অত্যন্ত সরু। পাশাপাশি যান চলাচল বৃদ্ধির কারণে সড়কে যানজট লেগে থাকে। এখানে বছর জুড়েই অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটে। যানজট নিরসন ও পর্যটকদের যাতায়াত সহজীকরণের লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গলে বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করে গেছেন। নতুন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছেও এ বিষয়ে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করব। বাইপাস সড়ক নির্মাণ হয়ে গেলে শহরে যানজট বলতে কিছু থাকবে না।’

কেকে/বি



আরও সংবাদ   বিষয়:  শ্রীমঙ্গল   যানজট   শহরবাসী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close