লক্ষ্মীপুর রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট ও দালাল চক্রের সক্রিয় উপস্থিতির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা।
চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মীর অভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে উপজেলার ৪ লক্ষাধিক মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
উপজেলার একমাত্র সরকারি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এক্সরে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও কেয়ারটেকার না থাকায় বহিরাগত চক্রদের চলাচলে বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে রোগীরা। ফলে দুর্ঘটনায় আহত বা হাড়ভাঙা রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে বেশি খরচে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কেয়ারটেকার না থাকার সুযোগে কিছু দালাল চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বেসরকারি হাসপাতালের নিয়োগকৃত দালাল ও হাসপাতালের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারী রোগীদের ভুল বুঝিয়ে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পরিক্ষা করাতে প্রলুব্ধ করছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক সন্তানের মা জানায়, ‘রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বড় ডাক্তার আসছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা বাজলেও এখন পর্যন্ত কোন ডাক্তার আসে নাই, নার্স এসে ঔষধ দিয়ে যায়।’
একজন সন্তানের মা জানায়, ‘সকাল ১১টায় ভর্তি হলাম- বাবু খুব কান্না করে- ডাক্তার আসে না- কোন ট্রিটমেন্ট পাই নাই।’
আরেকজন রোগী জানায়, ‘২টা ঔষধ দেয় আর বাকিটা বাহির থেকে নিতে হয়।’
একজন পুরুষ রোগী জানায়, ‘হাসপাতালের রুমে গন্ধ, থাকা যায় না। টয়লেটে যাবার বা ব্যবহারের ব্যবস্থা নেই। কিভাবে থাকবো এ জায়গায়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এখানে অনুমোদিত ৯ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও কেউই নেই। মেডিক্যাল অফিসার ১৭ জনের মধ্যে ৯ জন, সিনিয়র র্স্টাফ নার্স ৩১ জনের মধ্যে ৪ জন, মিড-ওয়াইফ ৬ জনের মধ্যে ৬ জনই, পরিচ্ছন্নকর্মী ৬ জনের মধ্যে ৬ জনই, ওয়ার্ডবয় ৫ জনের মধ্যে ৪ জন, অফিস সহায়ক ৬ জনের মধ্যে ৬ জনই, সিকিউরিটি গার্ড ২ জনের মধ্যে ২ জনই, আয়া ৩ জনের মধ্যে ৩ জনই শূন্য। এইসব শূন্য পদের বিপরীতে কেউ কর্মরত নেই।
এ বিষয়ে রামগতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স জানায়, ‘আমাদের মূল সমস্যা জনবল সংকট বিশেষ করে নার্স এবং পরিচ্ছন্ন কর্মী। আমাদের একজন পরিচ্ছন্নকর্মী তাকে দিয়ে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয় না। যার কারণে প্রতিনিয়ত সেবা দিতে হিমসিম খেতে হয়।
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.কামনাশীষ মজুমদার ছুটিতে থাকায় ওনার বক্তব্য নেবার সুযোগ হয়নি।
এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরএমও মাসুদ জাহান খোলা কাগজকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় আমাদের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বহির্বিভাগের ডাক্তার কম থাকায় রাউন্ডে যাওয়া সম্ভব হয়নি।’
দালাল চক্রের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাহিরে সিকিউরিটি গার্ড না থাকায় বহিরাগতদের দেখার সুযোগ হয় না, যার কারণে রোগীদের বহিরাগত চক্রের স্বীকার হতে হয়।’
কেকে/বি