মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জামায়াতেই ভর এনসিপির
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২২ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা মহলে রয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির জামায়াতে ইসলামীর ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অনেক বিষয়কে কেন্দ্র করে এসব সমালোচনা ফের নতুন করে সামনে এসেছে। 

যদিও এনসিপির দাবি, এটা জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য। এখানে কোনো আদর্শিক অবস্থান বা নির্ভরতা নেই। তবে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা বলছে ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, দলটি তার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও এখন মনে হচ্ছে দলটির কর্মসূচি ও অবস্থান অন্য একটি দলের ছায়ায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এতে এনসিপির নিজস্ব আদর্শিক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন তুলনামূলক দুর্বল দলগুলো টিকে থাকতে অনেক সময় বড় দলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সেই নির্ভরতা যদি ধারাবাহিক হয়ে ওঠে, তবে দলীয় স্বাতন্ত্র্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাদের মতে, নির্বাচনি সমীকরণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণসহ সব ক্ষেত্রেই এনসিপির অবস্থান ক্রমেই জামায়াতঘেঁষা বলে স্পষ্ট হচ্ছে। 

এ ছাড়া জামায়াতে সঙ্গে এনসিপির এমন ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দলটির অভ্যন্তরেও সংকট রয়েছে। এ ইস্যুতে দলটির একাধিক শীর্ষ অনেক নেতা নির্বাচনের আগেই আপত্তি জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। এমনকি জামায়াতে ইসলামী নির্ভরযোগ্য মিত্র নয় বলেও মন্তব্য করে দলটির শীর্ষ নেত্রী সামান্তা শারমিন বলেছিলেন জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কঠিন মূল্য চুকাতে হবে। 

নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক জোট করা নিয়ে আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ডিসেম্বর সামান্তা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এসব লেখেন।

জামায়াতের সঙ্গে জোট করা নিয়ে নিজের আপত্তি তুলে ধরে সামান্তা লেখেন, ‘তার (জামায়াতে ইসলামী) রাজনৈতিক অবস্থান বা দর্শনসহ কোনো সহযোগিতা বা সমঝোতায় যাওয়া এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির এত দিনের অবস্থান অনুযায়ী তার মূলনীতি, রাষ্ট্রকল্প জামায়াত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বিচার, সংস্কার ও গণপরিষদ নির্বাচন তথা সেকেন্ড রিপাবলিককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল এনসিপি। ফলে এই তিনটি বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান যেকোনো রাজনৈতিক মিত্রতার পূর্বশর্ত।’

সামান্তা বলেন, ‘নিম্নকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) আওয়াজ তুলে সংস্কারকে ব্যাহত করায় লিপ্ত হয়েছিলো জামায়াত। ফলত এনসিপির আহ্বায়ক বলেছিলেন যারা সংস্কারের পক্ষে নয় তাদের সাথে জোটও সম্ভব নয়। তাই জুলাই পদযাত্রার পর থেকে ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেয়া হয় আহ্বায়কসহ একাধিক বরাতে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে এনসিপি—এ ই মর্মে সারা দেশ থেকে প্রার্থীদের আহ্বান করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতের সাথে জোট করার সমস্যাসমূহ তুলে ধরা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান বোঝায় না। বরং বিভিন্ন বিষয়ে এতদিন ধরে প্রকাশিত ও নানান মহলে প্রশংসিত এনসিপির অবস্থান আমি সঠিক মনে করি ও নিজেকে এই আদর্শের সৈনিক মনে করি। বিএনপি-জামায়াতের যেকোনোটির সাথে জোট এনসিপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পলিসি থেকে সরে গিয়ে তৈরি হচ্ছে।’

এদিকে সম্প্রতি এনসিপি নেতা ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে ইলেকশন করবো, সেখান থেকে ৩০০ আসনে ইলেকশন করে আমরা যদি ৬টা আসন পাইতাম সেটা আরও বেশি সম্মানজনক মনে হইতো। কিন্তু আসলে আমরা সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে পারি নাই। এ ছাড়াও আমি বলেছিলাম, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোট করাটা ভুল ছিল বলবো না। পরিবেশ এবং সময় সেদিকে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা যদি না যেতাম আরও ভাল হতো।’

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এখানে কোন আদর্শিক ঐক্য হয়নি। এনসিপি তার আগের অবস্থানেই আছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে। এনসিপি তার আদর্শ অনুসারে কাজ করবে। অন্যদলগুলো তাদের আদর্শ অনুসারে কাজ করবে।’

নাহিদ আরও বলেন, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, সংষ্কার ও বিচার নিশ্চিতে আমরা একত্রে কাজ করব।

জোট গঠনের কারণ জানিয়ে নাহিদ বলেন, ওসমান হাদিকে গুলি করে শাহাদাত করার ঘটনায় আমরা দেখলাম গণঅভ্যুত্থানের খুনিরা এখনো সক্রিয়। তারা চেষ্টা করছে জুলাই প্রজন্মকে শেষ করার জন্য। তারা টার্গেট করছে আহত ও শহীদ পরিবারদের।

তিনি বলেন, এনসিপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমরা একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। আমরা শুরু থেকে বলেছি এককভাবে নির্বাচনের অংশগ্রহণের কথা। ৩০০ আসনের প্রস্তুতি চলছিল। এরপরে তিনটি দল মিলে জোট করেছিলাম। কিন্তু ওসমান হাদির ঘটনা আমাদের ভিন্ন চিন্তা করতে হয়।

নাহিদ বলেন, আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছি আধিপত্যপাদী শক্তি যেন বাংলাদেশের অভিযাত্রাকে থামাতে না পারে। সেজন্য আমরা বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্টা করেছি। এজন্য আমরা জামায়াত ইসলামির নেতৃত্বাধীন ৮ দলের জোটে অংশ নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার পাশাপাশি বিচার, সংস্কারের জন্য আমাদের কর্মসূচি থাকবে। গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা যেন বিনষ্ট না হয় সেজন্য আমাদের এই বৃহত্তর ঐক্য।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  জামায়াত   ভর   এনসিপি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close