মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ
মৌলভীবাজারে সূর্যমুখী চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
ছবি: শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ওরফে মিন্টু মিয়া

ছবি: শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ওরফে মিন্টু মিয়া

কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় মৌলভীবাজারের কৃষকরা সূর্যমুখী ফুল চাষে ঝুঁকছেন। সূর্যমুখী ফুল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা। জেলা সদর, বড়লেখা, জুড়ী এবং শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলতি বছরে সূর্যমুখী চাষ করা ক্ষেতে এখন ফুলের সমারোহ। 
  
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকবরপুর কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকায় বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সূর্যমুখী ফুল পূর্ণতা নিয়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে। 

একই চিত্র দেখা গেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর ও ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায়।

সূর্যমুখীর হাসিতে হাসছে মাঠ। সবুজ পাতার আড়ালে মুখ উঁচু করে আছে সূর্যমুখী। চারিদিকে সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ। আর এই হলুদ প্রকৃতিকে করেছে আরো লাবণ্যময়। সূর্য যেদিকে ফুলের মুখও সেদিকে। তাই এটাকে সূর্যমুখী বলে। নয়নজুড়ানো এ দৃশ্য মোহিত করছে সবাইকে। প্রতিদিন আশপাশ এলাকা থেকে সৌন্দর্য পিয়াসুরা দল বেঁধে আসেন সূর্যমুখী ফুলের বাগান দেখতে। 
 
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর মৌলভীবাজার জেলায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষ বাড়ছে। বিশেষ করে জেলার হাওরাঞ্চলে সূর্যমুখীর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরও সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে জুড়ী উপজেলায়। চলতি বছরে মৌলভীবাজার জেলায় মোট ১৪৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। এসব ক্ষেত থেকে সহস্রাধিক মণ সূর্যমুখী বীজ পাওয়া যাবে। 
  
শ্রীমঙ্গলের কৃষক আব্দুর রহিম ওরফে মিন্টু মিয়া জানান, তিনি উপজেলার লাহারপুর গ্রামে এবার ১৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি খেতে প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ করেছেন। তবে বাম্পার ফলন হয়েছে। কয়েক দিন পর তিনি বীজ সংগ্রহ করে করে বিক্রি করবেন। বাজারে বীজের দাম বাড়তি থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি।

আরেক চাষি মো. খলিল মিয়া জানান, তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায় তার জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছেন। এবার সাত শতক জমিতে চাষ শুরু করেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে বীজ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি খেতে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ করেছেন। তবে এখনো ফুল আসেনি। তবে কৃষক খলিল আশাবাদী এই খেত থেকে দুই-তিন মন বীজ সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পারবেন। বাজারে বীজের দাম বাড়তি থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। 

অল্প খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় সূর্যমুখী এখন জেলার কৃষকদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় তেল ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তায় ধীরে ধীরে বাড়ছে এর আবাদ। চলতি মৌসুমে  জেলার বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী বাগানগুলোতে ইতোমধ্যে ফুল ফুটেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে জেলায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে জেলা সদরের আকবরপুরে আবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এখানে চাষ করা হয়েছে উদ্ভাবিত বারী-৩ জাতের সূর্যমুখী। চলতি বছরে সূর্যমুখী চাষ করা খেতে এখন ফুলের সমারোহ। 

কৃষি বিভাগ জানায়, বারী-৩ জাতের সূর্যমুখী দেখতে খাটো গাছ, কিন্তু বিশাল আকারের ফুল প্রকৃতির যেন এক ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা। শক্ত কাণ্ডের কারণে সহজে হেলে পড়ে না, ফলে ঝড়-বৃষ্টিতেও ক্ষতির আশঙ্কা কম। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই জাতের উৎপাদন অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তেল বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এমন উদ্ভাবন শুধু কৃষকের আয় বাড়াবে না, আমদানি নির্ভরতা কমাতেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
  
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ফসল উৎপাদন ও ভালো দাম পাওয়া যায় বলে কৃষকরা এখন সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন। প্রতি বিঘা জমিতে এক কেজি বীজ দিতে হয়। দেড় ফুট অন্তর অন্তর একটি করে বীজ বপন করতে হয়। একটি সারি থেকে আরেকটি সারির দূরত্ব রাখতে হয় দেড় ফুট। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মন সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। 
  
কৃষিবিদদের ভাষ্যে, সূর্যমুখী এক ধরনের একবর্ষী উদ্ভিদ, যার গাছ প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সূর্যের মতো দেখতে এবং সূর্যের দিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকার বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর নাম সূর্যমুখী। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্যতেল হিসেবে পরিচিত। 

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যমুখী তেল কোলেস্টেরল কম থাকায় হৃদরোগীদের জন্য উপকারী এবং এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই থাকায় পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতেও সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

কৃষি বিভাগ জানায়, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল ও  মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় এর আবাদ বিস্তৃত হয়েছে। 
 
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান জানান, চলতি  মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪৯৪ শতক জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। সুর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। এবারও উপজেলার লাহারপুর এবং লইয়ারকুলসহ বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখীর ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সুর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। 
  
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় সূর্যমুখী চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিকাংশ বাগানে গাছে গাছে ফুল এসেছে। ভালো ফলন নিয়েও আশাবাদী কৃষি বিভাগ। প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে পতিত ও এক ফসলি জমি আবাদে আসছে এবং কৃষকদের মধ্যে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

কেকে/এসএ
 



আরও সংবাদ   বিষয়:  মৌলভীবাজার    সূর্যমুখী   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close