দেশের রাজনীতিতে সামাজিকমাধ্যম এখন ভূমিকা রাখছে। তবে সামাজিকমাধ্যম দেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের কর্মকাণ্ড ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির ফেসবুক পেজ ও নেতাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একাধিক পোস্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিযোগ আনা এবং একপাক্ষিক বিবৃতি দিতে দেখা গেছে।
এসব ঘটনায় বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির শীর্ষ নেতারাও। যা জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের তুলনায় জামায়াতে ইসলামীর ‘বট অ্যাকাউন্ট’ বা আইডিগুলো বেশি শক্তিশালী বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।
গত কয়েক দিনের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে ‘স্বীকৃতি’ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টটি দেওয়ার ছয়-সাত মিনিটের মাথায় আবার সরিয়ে নেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে এটি শতাধিক শেয়ার হয়। শতাধিক ব্যক্তি মন্তব্যও করেন।
এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে প্রকাশিত একটি পোস্টে নারীদের বিষয়ে অপমানসূচক মন্তব্য থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এরপর দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় সংশ্লিষ্ট এক্স অ্যাকাউন্টটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয় এবং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চাঁদা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এক গাড়িচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গত রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একজন গাড়িচালককে চাঁদা লেনদেনের ঘটনায় চাঁদাবাজরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। তবে অনেকের দাবি, যাত্রাবাড়ীতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এটাকে পরিকল্পিতভাবে উরকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বক্তব্য সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে যাচাই ছাড়া তথ্য প্রচার বা একপাক্ষিক অভিযোগ রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই জাল ভোট নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নামে ভুল তথ্য ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। এতে দাবি করা হয়, টিআইবি জানিয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। এই কার্ডটি জামায়াত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইডি থেকে ব্যাপক প্রচার হতে দেখা যায়। বিষয়টি গোচরে আসার পর টিআইবি নিজের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, টিআইবির তথ্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট পড়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-কে উদ্ধৃত করে ভুল ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্যকে ভুলভাবে প্রচার ও প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে।’
জাল ভোটসংক্রান্ত তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবির মাঠপর্যায়ের গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট প্রদানের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ তথ্যকে পুরো নির্বাচনে ২১.৪ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে- এমনভাবে ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ ভুল, ভিত্তিহীন ও অমূলক।
কেকে/ এমএস