বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় দুই লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে একটি মাদ্রাসা ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদার এসএম বদিউজ্জামান মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বুধবার (২৫ ফেরুয়ারি) অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার চার তলা বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওসমান আলী।
ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ৭-৮ জন লোক বাধা দেয়। তারা দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সব শেষ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে মো. হাফিজুর রহমান ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং গালিগালাজ করে ও হুমকি-ধমকি দেয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে কোথাও কোন অভিযোগ বা মামলা করলে জীবন নাশ, খুন-জখম ও মারধরের হুমকি দিয়ে চলে যায় যান তারা।
ঠিকাদার এসএম বদিউজ্জামান বলেন, ‘দরপত্রের সব নিয়ম মেনে আমরা কাজ করছিলাম। কিন্তু মো. হাফিজুর রহমান ও তার লোকজন চাঁদা চেয়েছিল, দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের লোকজনকে হুমকি-ধমকিও দিয়েছি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
অভিযুক্ত মো. হাফিজুর রহমান বলেন,
‘ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতির ছেলে ইস্রাফিলও আমাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে চেয়েছে, আমি নেইনি। স্বচ্ছভাবে কাজ হচ্ছে না। অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে, কাজে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তবে, শুনেছি স্থানীয় কিছু লোকজন চাঁদা চাওয়ার কারণে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।’
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকায় গুলিশাখালী ফাজিল মাদ্রাসার চারতলা বিশিষ্ট একতলা একাডেমিক ভবন আগামী নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
কেকে/এমএ