রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      
দেশজুড়ে
রামুর জাহানারার দারিদ্র্যের দহন, রাষ্ট্রের সহায়তার আশা
আনোয়ার হোছাইন, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম আপডেট: ২৬.০২.২০২৬ ৭:৩৩ পিএম
ছবি: স্বামী পরিত্যক্তা জাহানারা বেগম

ছবি: স্বামী পরিত্যক্তা জাহানারা বেগম

সীমান্তঘেঁষা জনপদের নিস্তব্ধতায় দাঁড়িয়ে আছে একটি ভাঙাচোরা কুঁড়েঘর—যেন দারিদ্র্যের এক জীবন্ত সাক্ষী। পলিথিনের ছাউনি ঝুলে পড়েছে, মাটির দেয়াল ফেটে গেছে, চারপাশে মৃত্যুফাঁদের মতো ঝুঁকে আছে জরাজীর্ণ কাঠামো। এই মৃত্যুঘরেই বছরের পর বছর ধরে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন স্বামী পরিত্যক্তা জাহানারা বেগম।
 
নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত লাগোয়া কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর থোয়াঙ্গাকাটা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাসজমির উপর দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর—যা বসবাসের উপযোগিতা অনেক আগেই হারিয়েছে। তারপরও এই ভাঙাচোরা আশ্রয়েই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন জাহানারা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে স্বামী মো. কামাল উদ্দিন দ্বিতীয় বিয়ে করে জাহানারাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকেই দুই সন্তানকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। জাহানারা বেগমের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে জীবনের কঠিন বাস্তবতার নির্মমতা।

কণ্ঠ ভারী করে তিনি বলেন, ‘স্বামী অন্য বিয়ে করে আমাকে ছেড়ে গেছে। এই ভাঙা ঘর ছাড়া আমার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। বর্ষা এলে ঘরের ভেতর বৃষ্টি পড়ে, তখন ছেলে নিয়ে অন্যের বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয়। শীতের সময় খুব কষ্ট হয়, রাতে ঘুমাতে পারি না ঠান্ডায়।’

তিনি জানান, মানুষের বাড়িতে খেতখামারের কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোরকমে সংসার চলে। কিন্তু সেই আয়ে দুই সন্তানকে ঠিকমতো খাওয়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
  
অভাবের নির্মম বাস্তবতা কেড়ে নিয়েছে তার বড় ছেলে মো. আবু বক্করের (১৫) শিক্ষার অধিকার। টাকার অভাবে স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সে। ছোট ছেলে মো. ওমর আলী (১০) স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়লেও তার লেখাপড়া নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. আবদুল জাব্বার বলেন, ‘জাহানারা আমার বাড়ির পাশেই থাকে। সে খুব অসহায়। পরিষদ থেকে মাঝে মধ্যে কিছু সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় তার খোঁজখবর রাখতে পারিনি। তবে এখন তার বিষয়টি আমার নজরে আছে। ভালো কোনো বরাদ্দ পেলে অবশ্যই তাকে দেওয়া হবে।’

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলম বলেন, ‘জাহানারা বেগমের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে এখন যেহেতু বিষয়টি সামনে এসেছে, আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।’

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এই জনপদে জাহানারার মতো অসংখ্য অসহায় নারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজন প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ।

জাহানারার ভাঙাচোরা কুঁড়েঘরটি যেন প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবুও এই ঘরই তার শেষ আশ্রয়, শেষ ভরসা।

রাষ্ট্রের কাছে তার একটাই আকুতি—একটি নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে সন্তানদের নিয়ে অন্তত বৃষ্টির পানি আর শীতের কাঁপুনি থেকে মুক্ত হয়ে বাঁচতে পারবেন।
 
সীমান্তের নির্জন জনপদে দাঁড়িয়ে থাকা সেই জরাজীর্ণ কুঁড়েঘর যেন নীরবে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—রাষ্ট্রের মানবিক ছোঁয়া কী পৌঁছাবে জাহানারার দোরগোড়ায়?
 
কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  রামু    নাইক্ষ্যংছড়ি    দারিদ্র্য   সহায়তা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close