চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পিকআপ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও সিএনজির যাত্রী ও পিকআপের হেলপার আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম অভিমুখী পিকআপ ও কক্সবাজার অভিমুখী সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ বোরহান জানান, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় দেখি পিকআপ গাড়িটির এক পাশের চাকা প্রথমে মূল সড়ক থেকে নেমে যায়। পরে আবার সড়কে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কক্সবাজার অভিমুখী সিএনজির গায়ে ধাক্কা দেয়।
এতে পিকআপ ও সিএনজি উভয়ই রাস্তার ডান পাশে ছিটকে পড়ে যায়। ফলে উভয় গাড়ির চালক ও যাত্রীরা মারাত্মক আহত হন। পরে স্থানীয় জনতাসহ তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। সিএনজিতে থাকা এক নারী যাত্রীর একটি পা কেটে যায়।
পিকআপ গাড়ির হেলপার মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘কক্সবাজার অভিমুখী সিএনজিটিকে একটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে আমাদের পিকআপ গাড়িকে চেপে দেয়। ফলে আমাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে রাস্তার উঁচু অংশ থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে উঠার চেষ্টা করলে সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।’
সিএনজির ড্রাইভার কনক বড়ুয়ার (৪০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে মাঝপথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান নিহতের বড় ভাই ধানাই বড়ুয়া।
আহতরা হলেন নাজমুল হুদা, হোসনে আরা বেগম, কানিজ ফাতেমা, লিলি আক্তার, রোজা জাহান (১০ মাস) ও রোমাইসা (৫)। তারা সবাই উপজেলার আধুনগর নয়া পাড়ার বাসিন্দা।
আহত পিকআপ গাড়ির হেলপারের নাম মোহাম্মদ হাসান (২২)। তিনি কুমিল্লা জেলার মুরাদপুর সদরের রামপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পিকআপ গাড়ির ড্রাইভারের নাম ইছাছিন (২৫)। সে কুমিল্লা জেলার মুরাদপুর সদরের রামপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ হানিফের পুত্র। পিকআপ গাড়িটির নম্বর চট্ট-মেট্রো-ন ১১-৬৭৮০।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে একটি টিম পাঠানো হয়েছে। সিএনজির ড্রাইভারের মৃত্যু হয়েছে বলেও আমরা জানতে পেরেছি। পিকআপের ড্রাইভার আপাতত লোহাগাড়া থানা হেফাজতে আছেন। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এলএ