সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      ঢাকার চারপাশের নৌ-পথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
দেশজুড়ে
তানোরে ফের লোকসান আগাম আলু চাষিদের, ঢলন প্রথায় ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩২ পিএম

আগাম জাতের আলুর ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও বাজারদর কম এবং ঢলন প্রথার চাপে রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাষিরা আবারও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। প্রতি মণে (৪০ কেজি) পাঁচ কেজি করে অতিরিক্ত আলু দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে বিঘাপ্রতি ২২ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতি গুনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

সম্প্রতি তানোর পৌরসভার গোকুল মোড়ে ট্রাকে আলু লোড করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। পাশেই বসে ছিলেন আলুচাষি ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে-প্রায় ৫০ বস্তা (প্রতি বস্তা ৭০ কেজি)। কিন্তু বাজারে নতুন আলুর দাম নেই। কেজি মাত্র সাড়ে ৯ টাকা। ৭০ কেজির বস্তা নিলেও দাম দিচ্ছে ৬৫ কেজির।’

তার ভাষ্যানুযায়ী, ‘বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করে মিলছে ২৫ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা। ফলে বিঘায় ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। গত বছরও লোকসান হয়েছে। এবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় বিলপাড়ের উঁচু জমিতে আগাম আলু করেছিলাম, কিন্তু আবারও ধরাশায়ী হলাম।’

আলুচাষি রইচ উদ্দিন সাড়ে তিন বিঘা জমির আলু সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। আরেক কৃষক আড়াই বিঘা জমির আলু একই দামে বিক্রি করেছেন। 

তাদের দাবি, বিঘাপ্রতি ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিঘায় প্রায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান। এভাবে লোকসান হলে পথে বসা ছাড়া উপায় থাকে না।

চাষিদের অভিযোগ, প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে ঢলন দিতে হচ্ছে। ৭০ কেজির বস্তা ট্রাকে তোলা হলেও দাম মিলছে ৬৫ কেজির। এতে প্রতি বস্তায় প্রায় ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা করে কম পাচ্ছেন তারা। হিসাব করে দেখা গেছে, ঢলনের কারণে বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি আলু অতিরিক্ত নিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীরা, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ৫ কেজি ঢলন না দিলে তারা আলু কিনতেই চায় না।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আইনুল বলেন, ‘এসব আলু ট্রাকে করে খুলনায় নেওয়া হবে। সেখানে সর্বোচ্চ কেজিতে ১-২ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা যায়।’

ঢলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জমি থেকে একেবারে কাঁচা আলু কেনা হচ্ছে। খুলনা মোকামে যেতে ওজন কমে যায়। কয়েক দিন বিক্রি না হলে আরও কমে। এজন্য ঢলন নিতে হয়।’

আরেক ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, ‘গত বছরের মতো এবছরও আলুতে চাষিরা ধরাশায়ী। বিঘায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ২৫ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা পাচ্ছেন। ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে।’

কৃষকদের দাবি, আগাম আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ঢলন প্রথা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। না হলে আগামী মৌসুমে আগাম আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন তারা।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close