বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় বান্দরবান শহরের ‘রি সং সং’ রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনে নির্বাচন করার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং ৩৭ বছর ধরে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসন ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে অনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বারা। ফলে জেলা পরিষদগুলো হয়ে উঠেছে দুর্নীতির আখড়া। নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পরিষদে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বেড়েছে এবং সুষম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।’
মজিবর রহমান আরো বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যা, গুম ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কারণে সাধারণ জনগণ আতঙ্কে বসবাস করছে।’
তিনি আঞ্চলিক অখন্ডতা রক্ষায় প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনরায় স্থাপন করা, একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান।
মজিবর রহমান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এই অঞ্চলে কাঙ্খিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসেনি। উল্টো চুক্তির শর্তাবলি বাংলাদেশের মূল সংবিধানের সাথে বহুলাংশে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক হওয়ায় পাহাড়ের পরিস্থিতি আরও জটিল ও নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে।’
তিনি দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ ও শান্তি চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সেক্রেটারি মো. নাসির উদ্দীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এসএ