বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেনের বিরুদ্ধে চরম অদক্ষতা, অবহেলা ও নজিরবিহীন স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। তার খামখেয়ালিপনায় শেরপুর পৌরসভার হাজার হাজার বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অসুস্থ রোগীরা ঔষধ কিনতে পারছেন না।
এছাড়াও বর্তমানে রমজান মাস চলায় টাকা না পেয়ে খুব কষ্টে সময় পার করছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এ ঘটনায় স্থানীয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত এক অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগে জানা যায়, শেরপুর পৌরসভার বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমান সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেনের দায়িত্বহীনতার কারণে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির পে-রোল যথাসময়ে প্রেরণ করা হয়নি। ফলে হাড়কাঁপানো এই শীতের মধ্যে অর্থাভাবে দিনাতিপাত করছেন হাজারো অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষ। যেখানে সরকারের লক্ষ্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে একজন কর্মকর্তার গাফিলতিতে সরকারের সেই উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বসেছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সমাজসেবা কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিগত ‘ফ্যাসিবাদ সরকারের’ সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ছাত্র ও কর্মজীবনের এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও নিয়মিত অশোভন আচরণ করেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তার এমন আচরণে স্থানীয় সুশীল সমাজ মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান, অফিসারের টেবিলে ফাইল পড়ে থাকে, কিন্তু তিনি পে-রোল পাঠান না। গরিব মানুষগুলো টাকার জন্য আমাদের কাছে এসে কান্না করে। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে এবং অফিস ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
বুধবার ভুক্তভোগী ভাতাভোগী ইয়ারবক্স শেখ, আমনো বেগম, বাছেরা বেগম ও মো. হারেজসহ (৬ নং ওয়ার্ড) ৯ জন ভুক্তভোগী সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক এবং বগুড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আটকে থাকা ভাতার অর্থ দ্রুত ছাড় করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইয়ারবক্স শেখ, আমনো বেগম ও বাছেরা বেগম বলেন, “আমরা অসুস্থ মানুষ। এই ভাতার টাকা দিয়ে ঔষধ কিনে খাই। এছাড়াও রমজান মাস চলছে, কী কষ্টে আছি বোঝানোর মতো ভাষা নেই। কিছু জানাতে বা বলতে গেলে এই সমাজসেবা স্যার অশোভন আচরণ করেন।”
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “বিষয়টি অবগত আছি। আমি নভেম্বরে এসেছি, কাজ গুছিয়ে নিতে সময় লেগেছে। এজন্য পাঠাতে পারিনি। এখন পাঠাচ্ছি। গত ৩ মাসের বয়স্ক-প্রতিবন্ধী ভাতা পায়নি, ৬ মাসের একসঙ্গে পাবে আশা করছি। আর অভিযোগটি দেওয়া হয়েছে আমাকে হয়রানি করার জন্য।”
কেকে/এলএ