মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৬ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
সীমান্ত এলাকা যেন মাদকের নিরাপদ ট্রানজিট
শ্রীমঙ্গলে বেপরোয়া মাদক কারবারিরা, ছুরিকাঘাতে আহত দুই নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। মাদক সরবরাহকারী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। 

সহজলভ্য হওয়ায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে যুবসমাজ। এতে উপজেলায় বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ড। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা, ছুরিকাঘাতসহ প্রাণে হত্যার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ভুক্তভোগী শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক শ্রম-বিষয়ক সম্পাদক সোহেল আহমদ জানান, “শহরের শাপলাবাগ রেলক্রসিং এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত আলামিন ও তার মা-বোন মিলে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। আমি বিভিন্ন সময় এর প্রতিবাদ করে আসছি। কিছুদিন আগে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমরা সমাবেশ করেছিলাম। এরপর থেকে আলামিন আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে এবং সুযোগ খুঁজতে থাকে। গত বৃহস্পতিবার শহরের সিন্দুরখান রোডে আমাকে একা পেয়ে প্রাণে হত্যার চেষ্টা করে।” 

তিনি আরও জানান, “আলামিনের নেতৃত্বে রুয়েল, জহিরসহ মাদক কারবারি চক্রের কয়েকজন সদস্য সংঘবদ্ধভাবে ধারালো ছুরি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করে। মাদক কারবারিদের ছুরিকাঘাতে আমি আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেই। এসময় আমাকে রক্ষা করতে এসে শ্রীমঙ্গল উপজেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক সেজুল আহমদ ফয়েজসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।”

আরেক ভুক্তভোগী শহরের সোনার বাংলা এইচ এ মার্কেট (নতুন বাজার দক্ষিণ) কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম লিয়াকত বলেন, “সোনার বাংলা রোড এলাকায় স্বপনের বাসায় দীর্ঘদিন যাবত মাদক বাণিজ্য চলে আসছিল। মাদকসেবিদের আনাগোনার কারণে মার্কেটে ছুরি ছিনতাই বৃদ্ধি পায়। আমরা সব ব্যবসায়ীরা মিলে এলাকা থেকে মাদক ব্যবসা বন্ধে কয়েক মাস আগে মাদক বিরোধী সমাবেশ করি। এ সমাবেশে আমি মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেই। এই বক্তব্যের জেরে মাদক কারবারি স্বপন মিয়া কয়েক মাস আগে আমাকে রাস্তায় একা পেয়ে সাইকেল প্রতিরোধ করে হামলার চেষ্টা ও প্রাণে হত্যার হুমকি প্রদান করে। পরে আমি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করি।”

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের শাপলাবাগ রেলক্রসিং এলাকার রেললাইনের দুই পাশে নেশার রাজত্ব গড়ে তুলেছে সেখানকার মাদক সম্রাট নামে খ্যাত আলামিন মিয়া। শহরের ছোট-বড় মিলে বিভিন্ন স্পটে আলামিনসহ এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত মাদক বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। এসব এলকায় প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এছাড়া সোনার বাংলা রোডের চিহ্নিত আরেক মাদক কারবারি স্বপন মিয়াও দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। 

অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন সীমান্ত। অন্যদিকে জেলার কুরমা, ধলই ও চাতলাপুর এবং মরইছড়া ও লাতু-বাল্লা সীমান্ত। এসব সীমান্ত এলাকা কাছে থাকায় মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেও পর্যটন এলাকা শ্রীমঙ্গলকে ব্যবহার করছে মাদক পাচারকারীরা। 

অভিযোগ উঠেছে, মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে আলামিন ও তার বাহিনী। তার রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এলাকার বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ মাদক ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছেন তার নিজস্ব বাহিনী। এর মধ্যে তার মা-বোনও রয়েছেন। ইয়াবা ব্যবসায়ীর মধ্যে আলাামিনের নামে শ্রীমঙ্গল থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মাদকের মামলা। পুলিশের অভিযানে কিছু দিন পর গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে গেলেও জামিনে বেরিয়ে আসার পর আবার শুরু হয় মাদক কারবারি চক্রের সদস্যদের মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। 

মাদক কারবারিরা নিজেদের মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজিযোগে মৌলভীবাজার জেলাসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচার করে। কোনো দিন দুপুর আবার কোনোদিন সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় বিভিন্ন স্পটে এসব মাদকের ব্যবসা। 

বিশেষ করে শহর ও শহরতলীর শাপলাবাগ, শাহীবাগ, লালবাগ, উত্তরসুর, নতুনবাজার লেবার কলোনি, রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, আরামবাগ মুচিপট্টি, পশ্চিম ভাড়াউড়া, ভানুগাছ রোড রিজিক রেস্টুরেন্টের পেছনে, রেললাইনের উভয় পাশে, বিভিন্ন চা-বাগান এলাকায় এসব ব্যবসা চলে। সন্ধার পর জমে ওঠে মাদকসেবিদের আড্ডা। 

শ্রীমঙ্গলে আলীসারকুল, সিন্দুরখান বাজার বস্তি, কুঞ্জবন, জানাউড়া মন্দিরগাঁও, সিন্দুরখান রোড, শাপলাবাগ এবং সীমান্তবর্তী মাংরা বস্তির হাতেগোনা কয়েকজন মাদক নিয়ন্ত্রণ করলেও পুলিশ কোনোভাবেই মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম থামাতে পারছে না।

স্থানীয়রা জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী রাজঘাট ও সিন্দুরখান ইউনিয়নের মাংরা বস্তি, বিদ্যাবিল, কুঞ্জবন, কৃষ্ণছড়া, জাম্বুরাছড়া পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় মাদক দেশে আসছে। সীমান্ত এলাকাকে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে মাদক পাচারকারীরা। প্রতিদিনই এসব পয়েন্ট দিয়ে মদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশ করছে। মাদকসহ চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবির তৎপরতা সত্ত্বেও কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না  মাদক ও চোরাকারবারীদের তৎপরতা। 

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না খোলা কাগজকে বলেন, “সিন্দুরখান রোড ছুরিকাঘাতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “আলামিনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সবকটি মামলায় সে জামিনে রয়েছে। মাদক কারবারিদের ধরতে পুলিশ সবসময় তৎপর আছে। মাদক বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  বেপরোয়া মাদক কারবারি   সীমান্ত এলাকা   নিরাপদ ট্রানজিট   মাদক  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close