জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উদ্বোধন হয়েছিল দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরি। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি কার্যক্রম। বই আসেনি, কাজও শেষ হয়নি।
গত বছরের ২৭ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে বড় আয়োজন করে ভার্চুয়ালি এই লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
প্রায় ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির এখনো সমাপনী কাজ বাকি। কোথাও জানালার চূড়ান্ত রং হয়নি, কোথাও বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ ঝুলে আছে। ভেতরে এখনো নির্মাণকাজের চিহ্ন। আর বুকশেলফ? সেগুলো একেবারেই খালি। একটি বইও এখনো পৌঁছায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কাজ শেষ না করেই কেন উদ্বোধন? কেন এমন তড়িঘড়ি আয়োজন?
একজন কলেজ শিক্ষার্থী জানান, আমরা ভেবেছিলাম লাইব্রেরি চালু হবে, পড়াশোনার সুযোগ পাব। কিন্তু এখনো সবকিছু বন্ধ। শুধু নামেই লাইব্রেরি।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘জানালার থাই রং ও ইলেকট্রিকের কিছু কাজ বাকি। এগুলো শেষ হলেই কাজ সম্পন্ন হবে। বই বরাদ্দের বিষয় আলাদা।’
প্রকল্পের ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, ‘ইউএনও স্যার ফোন দিয়ে বলেছেন, এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। আমরা দ্রুত কাজ করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছে। গুণগত মান ঠিক রেখে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে। নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করা হবে না।’
খানসামার শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একটি লাইব্রেরি শুধু ভবন নয়—এটি জ্ঞানের আলো ছড়ানোর স্থান। খালি তাক আর অসম্পূর্ণ দেয়াল দিয়ে সেই আলো জ্বলে না। উদ্বোধনের আগে এসব কাজ শেষ করা গেল না কেন? জাঁকজমক অনুষ্ঠানের পরও যদি মাসের পর মাস লাইব্রেরি বন্ধ থাকে, তাহলে সেই উদ্বোধনের অর্থ কী?
এখন সবার একটাই দাবি—আর দেরি নয়। দ্রুত কাজ শেষ হোক, বই আসুক, লাইব্রেরির দরজা খুলুক। ৫৩ লাখ টাকার এই প্রকল্প যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় আটকে না থেকে সত্যিকার অর্থে মানুষের কাজে লাগে।
কেকে/এসএ