কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ‘আহত জুলাই যোদ্ধারা’। তারা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল বা স্থগিতের দাবি জানান।
রোববার (১ মার্চ) মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় এবং এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
একই আদেশে আরও চারজন জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদ থেকে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয় ইকবাল হোসেনকে।
প্রত্যাহারের খবর প্রকাশের পর থেকেই কুষ্টিয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকেই তাকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে অনেকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এদিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন- এ দেশে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষের মূল্য নেই। যদিও পোস্টে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, অনেকেই ধারণা করছেন এটি জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার প্রসঙ্গেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য। পরে পোস্টটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০টায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাবেক নেতা শেখ মোস্তাফিজুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ আকস্মিক সিদ্ধান্তে জেলাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একজন সৎ, যোগ্য ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে ইকবাল হোসেন জেলার উন্নয়ন ও সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এমনটাই দাবি।
কেকে/বি