জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির লিঙ্গ কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। আত্মরক্ষার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারী। পরে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ক্ষেতলাল পৌরসভার মুন্দাইল এলাকায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম (নজু) ও ভুক্তভোগী একই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার সময় গৃহবধূ ঘরে একা ছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্ত জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। নিজের সম্ভ্রম রক্ষার্থে গৃহবধূ হাতের কাছে থাকা ব্লেড দিয়ে আঘাত করলে অভিযুক্ত গুরুতর আহত হন। এতে তার পুরুষাঙ্গ কেটে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার (২ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় এজাহার দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে গৃহবধূ উল্লেখ করেন, “ঘটনার দিন আমি ঘরের ভেতরে কাজ করছিলাম। আমার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না, সন্তানরা ঘরের ভেতরে খেলছিল। এমন সময় প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম হঠাৎ আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে জাপটে ধরে। আমি চিৎকার করলে সে আমার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সে আমাকে বিছানায় ফেলে দেয়। তখন আত্মরক্ষার জন্য ঘরে থাকা ব্লেড দিয়ে তাকে আঘাত করি। এতে তার গোপনাঙ্গ কেটে যায়। পরে সে রক্তাক্ত অবস্থায় পালিয়ে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী মুকুল হোসেন বলেন, “এর আগেও নজরুল ইসলাম বিভিন্নভাবে আমার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি কাউকে জানাইনি। ঘটনার দিন আমার স্ত্রী ঘরে বসে পায়ের নখ কাটছিল। এ সময় নজরুল ঘরে ঢুকে তাকে জড়িয়ে ধরে। পরে আমার স্ত্রী আত্মরক্ষার্থে ব্লেড দিয়ে আঘাত করে।”
অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এমন কিছুই ঘটেনি।”
পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
কেকে/এলএ