বোনের বাড়ি থেকে অটোরিকশায় কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের মহেশ চন্দ্র দাস। ইউনিয়নের বাধাঘাট এলাকায় রাস্তার মাঝে নির্মাণাধীন সেতু পার হতে গেলে ঠিকাদারের ম্যানেজার মো. রাকিব গাড়ি প্রতি ১ হাজার টাকা করে দাবি করে। মহেশ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঘটনাটি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাককে জানান।
মোস্তাক কল দিয়ে ম্যানেজার রাকিবকে গাড়ি পারাপার করতে বললে সেতুর কাজ চলছে তাই গাড়ি চলতে পারবে না বলে জানান রাকিব, একপর্যায়ে দুইজনের কথাবার্তায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনার একটি অডিও কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়লে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাককে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব অষ্টগ্রাম এলাকায় সেতুর কাজ চলছে। বর্তমানে সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে। কার্পেটিং ও রেলিংয়ের কাজ শেষ হলেই ৪৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে। পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না হলেও দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে গাড়ি পারাপারের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারের কাজে দায়িত্বরত ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। মালামাল ও যাত্রী ভেদে সেতু পারাপারের টাকা নির্ধারণ করেন ম্যানেজার রাকিব। টাকা পেলেই তবে সেতুর উপর অস্থায়ী গেটের তালা খুলা হয়।
কয়েকজন অটো ও ট্রাক চালকের সাথে কথা বলে জানা যায়, নদী পারাপারের জন্য সেতু হওয়ায় আমাদের সুবিধা হয়েছে। নয়তো একটু রাস্তার জন্য অনেক পথ ঘুরা লাগতো। সেতুর কাজ শেষ দিকে হওয়ায় সেতু দিয়েই গাড়ি পারাপার করা যায়। সেতু পারাপার করার জন্য গাড়ি প্রতি মালামাল বা যাত্রী হিসেবে টাকা দেওয়া লাগে ঠিকাদারের ম্যানেজারকে. নয়তো গেট বন্ধ করে রাখে।
হিন্দু অধ্যুষিত পূর্ব অষ্টগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা বলেন, বিগত সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত আমাদের বিপদ-আপদে মোস্তাক এগিয়ে এসেছে। আজ আমাদের সম্প্রদায়ের একজনের জন্য মোস্তাককে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে আমরা এর প্রতিকার চাই।
মহেশ চন্দ্র জানান, বোনের শশুরবাড়ি থেকে কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে অটোরিকশা করে বাড়ি আসছিলাম। আসার পথে সেতু পার হতে গেলে ঠিকাদারের ম্যানেজার রাকিব দুই অটোরিকশার জন্য দুই হাজার টাকা দাবি করে নয়তো সেতু পার হওয়া যাবে না বলে জানায়। এ বিষয়টি মোস্তাক ভাইকে জানালে তিনি ঠিকাদারের ম্যানেজারের সাথে কথা বলেন। তারপরও ম্যানেজার সেতু পারাপারের জন্য তালা খুলে দেয়নি।
তিনি আরও জানান, আমরা হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ছাড়া একসাথে সমাজে বড় হয়েছি। মোস্তাক ভাই আমার উপকার করতে গিয়ে আজ প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছে। এ ঘটনা যাচাই-বাছাই করলেই সত্য বেরিয়ে আসবে এবং মোস্তাক নির্দোষ তা প্রমাণিত হবে।
এদিকে, সোমবার (২ মার্চ) বিকালে আল মাহমুদ মোস্তাকের বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব অষ্টগ্রাম এলাকায় ছাত্রদল ও স্থানীয় এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
এ বিষয়ে সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোমিনুল এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. রাকিব বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে সেতু পারাপারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ঘটনার দিন ব্রীজের শেষের জয়েন্ট দেওয়া হয়েছিল। তাই, গাড়ি পারাপার করতে না করলে ছাত্রদল নেতা আমায় হুমকি-ধমকি দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে।’
আল মাহমুদ মোস্তাক বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের বিপদ-আপদে সামর্থ্য মত এগিয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দা মহেশের ঘটনা শুনে ম্যানেজার রাকিবকে কল দিলে নানা কথাবার্তা বলে উত্তেজনা বাড়িয়ে আমার কথা কাট-ছাট করে স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে নিয়ে ছড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে হামলা-মামলা, জেলের স্বীকার হয়েছি। তারপরও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করি নি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থা থেকে ওয়ার্ড পর্যায় থেকে উপজেলা ছাত্রদলের সর্বোচ্চ আসনে আসীন হয়েছি। দল আমাকে ছেড়ে দিলেও আমি দলকে ছেড়ে দেয়নি।’
কেকে/এমএ