কক্সবাজারে এক অসহায় পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করতে ‘মিথ্যা মামলাবাজ খ্যাত মনোয়ারা বেগম’-এর বিরুদ্ধে অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তার স্বামী রোহিঙ্গা কালু প্রকাশ বদিউল আলমকে তুরুপের তাস বানিয়ে তিনি শাহ আলম ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেন।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়া গ্রামের এ ঘটনা এলাকাজুড়ে আলোচিত।
ভুক্তভোগী শাহ আলমের দাবি, গত ২৯ জানুয়ারি রাতে মনোয়ারার স্বামী মদ্যপ অবস্থায় হেটে গেলে কে বা কারা তাকে নিয়ে কথা বলে। এদিকে কালু প্রকাশ বদিউল আমার ছেলে এনামুল হককে টার্গেট করে গালিগালাজ করতে থাকে। পরে বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র (লম্বা দা) এনে এনামুল হককে আক্রমণ করলে তার খালাতো ভাই জাহিদ আলম তা প্রতিহত করে। জাহিদ আলম দেশীয় অস্ত্র কালুর কাছ থেকে কেড়ে না নিলে আমার ছেলে এনামুল হককে আজকে হারাতে হতো।
তিনি আরও দাবি করেন, আমরা মামলা না করায় রোহিঙ্গা কালু প্রকাশ বদিউল আলম বাদি হতে না পেরে তার স্ত্রীকে দিয়ে আমার ছেলে এনামুল হক, জাহিদুল আলম ও আমাকে আসামি করে রামু থানায় মামলা দায়ের করে। এর পর থেকে আমরা বাড়িতে থাকতে পারছি না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহ আলমের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগমের স্বামীর আরেক সংসারের ছেলে মাদক মামলার আসামি শহীদুল্লাহর সঙ্গে সামান্য বিরোধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে—মনোয়ারা বেগম প্রভাবশালী একটি মহলের ইন্ধনে শাহ আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করেন। মাদক মামলার আসামি শহীদুল্লাহর প্রতিবেশী হওয়ার কারণে প্রতিদিন শাহ আলমের বাড়িতে ঢিল মারে এবং মেয়েদের উত্যক্ত করে। তা সহ্য করতে না পেরে শাহ আলামের পরিবার বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে অন্যত্র বসবাস করতে থাকে বলে জানান শাহ আলম।
ভুক্তভোগী শাহ আলম জানান, ‘আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারছি না। মনোয়ারা বেগমের স্বামী রোহিঙ্গা কালু প্রকাশ বদিউল আলম নিজে আমার সন্তান এনামুল হককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারতে এসে উল্টো আমাদের আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। এসব মামলা তদন্তে অধিকাংশ সময় মিথ্যা প্রমাণিত হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এখন পথে বসার উপক্রম।’
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানান, মিথ্যা মামলার কারণে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, তিতারপাড়া এলাকার কয়েকজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মনোয়ারা বেগমের মামলা করার প্রবণতা এলাকায় পরিচিত। সামান্য কথা কাটাকাটি হলেই তিনি আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেন। শাহ আলমের পরিবার অত্যন্ত নিরীহ প্রকৃতির এবং তারা এই ষড়যন্ত্রের শিকার বলে স্থানীয়দের ধারণা।
সাম্প্রতিক একটি মামলার প্রেক্ষিতে শাহ আলমের পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা চান একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসুক এবং মিথ্যা মামলাবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে মনোয়ারা বেগমের সাথে প্রতিবেদক কথা বলতে এজাহারে দেওয়া নাম্বারে ফোন করা হলে ফোন রিচিভ করেন তার স্বামী বদিউল আলম। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি সড়কের কাজের পাহারাদার হিসেবে চাকরি করি। তারা রাতে সড়কের জিনিসিপত্র নিতে চাইলে আমাকে আক্রমন করে এতে আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই।’
এলাকাবাসীর দাবি, পুলিশ প্রশাসন যেন সরেজমিনে তদন্ত করে এই বিবাদের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে এবং নিরপরাধ পরিবারটিকে এ আইনি হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়।
রামু থানার অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানান, ‘মামলা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আসল রহস্য উঠে আসবে।’
কেকে/এসএ