বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণে এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন পইথান আর্থের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার থাইংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অনুষ্ঠিত “বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৬: বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে তরুণদের সচেতনতামূলক আলোচনা” শীর্ষক এ সভায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণরা অংশ নেন।
এতে আলোচনা পেশ করেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও পইথান আর্থের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন সিকদার, ইন সার্চ অব হিউম্যানিটির সভাপতি রাইহান উদ্দিন এবং স্থানীয় বন বিট কর্মকর্তা আরফাতুল ইসলাম।
আলোচকরা বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এখন আর কেবল পরিবেশবাদীদের বিষয় নয়; এটি মানব অস্তিত্বের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণীর বাসস্থান ধ্বংস, অবৈধ শিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহু প্রজাতি হুমকির মুখে রয়েছে।
বক্তারা কক্সবাজারের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। সমুদ্র উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য, পরিযায়ী পাখি এবং সামুদ্রিক কচ্ছপ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল তৈরি করতে গিয়ে হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি দখল হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থল হারিয়েছে।
গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তরুণরা বলেন, বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে অন্তত ১৩ প্রজাতির মেরুদণ্ডী প্রাণী। সরকারি-বেসরকারিভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দৃশ্যমান কার্যক্রম না থাকায় এ তালিকা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
তারা বলেন, বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—পৃথিবী শুধু মানুষের জন্য নয়। প্রতিটি প্রাণী, প্রতিটি বন, প্রতিটি বাস্তুতন্ত্র আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
অনুষ্ঠানে তরুণদের পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
এ উদ্যোগে সহযোগী সংগঠন হিসেবে ভূমিকা পালন করে ইন সার্চ অব হিউম্যানিটি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সম্মেলনে ৩ মার্চকে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশও দিবসটি পালন করছে।
কেকে/এলএ