মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে সোনারগাঁ উপজেলায় এক ইউনিয়নভিত্তিক ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত হোসেন সৈকত। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হক।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কমিউনিটি মোবিলাইজার আতিক হাসান বলেন, ‘মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন এখন একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন। তাই নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানানো এবং স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।’
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সেন্টার ম্যানেজার শর্মী আরা হোসেন মিশু। তিনি বলেন, ‘মানব পাচার একটি সংগঠিত অপরাধ। সচেতনতার অভাব, বেকারত্ব ও বিদেশে উচ্চ আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে শওকত হোসেন সৈকত বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে প্রশাসন একা সফল হতে পারে না। স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হক বলেন, ‘মানব পাচার এখন আমাদের সমাজের জন্য একটি নীরব আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। অল্প সময়ে বেশি আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্র গ্রামের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অনেক পরিবার তাদের সহায়-সম্বল বিক্রি করে প্রবাসে পাঠানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—এটি পুরো সমাজের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়। বিদেশে যেতে হলে অবশ্যই সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। কারও কথায় প্রলুব্ধ হয়ে অবৈধ পথে যাওয়া মানেই নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া। আমরা দেখেছি, অনেক তরুণ বিদেশে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, কারাগারে বন্দি হচ্ছেন বা দেশে ফিরতে পারছেন না।’
তিনি আরও বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে ইউনিয়ন পরিষদ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। আমরা গ্রামভিত্তিক সচেতনতা সভা আয়োজন করব, ওয়ার্ড সদস্যদের সম্পৃক্ত করব এবং সন্দেহজনক দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সনমান্দী ইউনিয়নে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে ইউনিয়ন পরিষদ সবসময় সহযোগিতা করবে। গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা সভা ও প্রচারণা জোরদার করা হবে।সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধই পারে মানব পাচার বন্ধ করতে। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে সনমান্দী ইউনিয়নকে মানব পাচারমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।
কর্মশালায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মুশিকুল ইসলাম মোহন, মীমরাজ হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রী, শিক্ষক, যুব প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
কেকে/ এমএস