মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ মেশানোর অপরাধে রেস্টুরেন্ট সিলগালা ও জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ ) দুপুরে রবিরবাজার, মধ্য রবিরবাজার, কর্মধা রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় নিত্যপণ্য ও ইফতার সামগ্রী তৈরি প্রতিষ্ঠানে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করে র্যাব-৯ এর সদস্যরা।
অভিযানকালে জিলাপিতে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ মেশানো, ক্ষতিকর রং মিশ্রণ, পোড়া তৈল দিয়ে খাদ্য পণ্য তৈরি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাদ্য পণ্য তৈরি ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মধ্য রবিরবাজারে অবস্থিত আল মদিনা মিষ্টি ঘরকে ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স সুজন মিষ্টি ঘরকে ২০ হাজার টাকা ও ধানসিড়ি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল-আমিন জানান, “ন্যায্যমূল্যে পণ্য ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চতকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। সেই লক্ষে বুধবার কুলাউড়া উপজেলার বিভিন নিত্যপণ্যের বাজারে ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ মেশানোর অপরাধে ধানসিড়ি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড হোটেলকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এই হোটেলকে সাময়িক সিলগালা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “হাইড্রোজ একটি বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য যা খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার খাদ্য সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার প্রবিধিমালা-২০১৭ অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাইড্রোজ যুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিশেষ করে কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাকস্থলীর ক্যনাসার, পেটের পীড়া ও আলসার মানব দেহের বিভিন্ন হরমোনের কাযক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।”
অভিযানে ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিলাপিতে নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করায় মৌলভীবাজারের বেঙ্গল সুইট ফুডকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
কেকে/এজে