গাজীপুরের দিগন্ত সুয়েটার্স লিমিটেডের কারখানায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে ঈদের আগে ৭৫ জন শ্রমিককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে গাজীপুরের বাসন নাওজোর এলাকায় কারখানার সামনে এ সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে বন্ধ থাকা কারখানাটি বুধবার থেকে পুনরায় চালু করেছে কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানার অভ্যন্তরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, বেআইনি ধর্মঘট ও অবৈধভাবে কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগে ৭৫ জন শ্রমিককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ জন শ্রমিকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০০-৪০০ শ্রমিককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
সাময়িক বহিষ্কৃত শ্রমিক রহিমা বেগম বলেন, ‘আমার বয়স হইছে। তিনটা মেয়েকে নিয়ে বাসায় আছি। স্বামী দুর্ঘটনায় ঘরে পড়ে আছে। ঈদের আগে চাকুরিটা চলে গেছে। এখন কী করবো? কোথায় যাবো?’
কেন বহিষ্কার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত রোববার (১ মার্চ) তাদের বেতন পরিশোধ করা হয়। তারা ১৫ হাজার টাকা বেতন পান, কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ টাকা। এতে সহকর্মীরা বকেয়া টাকার দাবিতে আন্দোলন করেন।
রহিমা বেগম বলেন, ‘সেদিন আমি আন্দোলন করি নাই। আমি বাসায় ছিলাম। আজ কারখানায় গিয়ে দেখি ৭৫ জনের চাকুরি নাই বলে গেটের সামনে নোটিশ টানিয়ে দিছে। সেখানে আমার নামও রয়েছে।’
পুলিশ কর্তৃপক্ষের চিঠির বরাতে জানায়, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।
নোটিশে জানানো করা হয়, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কারখানার অভ্যন্তরে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাঙচুর, সম্পত্তি বিনষ্ট, অশান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি, বেআইনি ধর্মঘট, অবৈধভাবে কাজ বন্ধ রাখা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’-এর ২৩ (৪)’-এর ক, খ এবং ছ উপ-ধারা অনুযায়ী নিম্নতালিকাভুক্ত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাময়িক বরখাস্তের পত্র জারি করা হয়েছে। প্রত্যেকের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। বরখাস্তকৃত শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারখানায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
দিগন্ত সুয়েটার্সের ম্যানেজার (অ্যাডমিন) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানা আজ থেকে চালু হয়েছে এবং ৭৫ জন শ্রমিককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিস্কৃত শ্রমিকদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’
বেতন কম পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভুলে টাকা কম দেওয়া হয়েছিলো। বকেয়া পরিশোধ করা হবে।’
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক ফেডারেশন গাজীপুর মহানগরের সভাপতি শফিউল আলম বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন থেকে অর্থ কর্তন করায় মালিক-শ্রমিকের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। মালিকপক্ষের গাফিলতির কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে ঈদের আগে শ্রমিকদের নামে মামলা দায়ের ও সাময়িক বরখাস্ত করা অযৌক্তিক।’
‘দায়েরকৃত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার, গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকদের মুক্তি ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কর্মস্থলে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।’
কেকে/এসএ