২০২৫ সালের নভেম্বরে যোগ দেওয়া ঢাকার ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান মোহাম্মদ সালমান হাবীবকে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তৃতীয়বারের মতো উপজেলার সর্বোচ্চ পদে থাকা কর্মকর্তার বদলিজনিত পদায়ন ঘটলো।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাঠ প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল মামুন ধামরাইয়ে একই পদে পদায়ন হবেন।
অন্য দিকে, ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মোহাম্মদ সালমান হাবিব মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদায়ন হবেন।
২০২৪ সালের ১৪ মার্চ ধামরাইয়ে ইউএনও হিসেবে যোগ দেন খান মো. আব্দুল্লা আল মামুন। জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনিই ধামরাইয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর খান মো. আব্দুল্লা আল মামুনকে বদলিজনিত পদায়ন করা হয়। ইউএনওর বদলির বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল করে। তবে বদলি বহাল থাকে।
এরপর ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর ধামরাইয়ে ইউএনও হিসেবে পদায়ন হন মামনুন আহমেদ অনীক। প্রায় ১১ মাস পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকেও বদলি করা হয়। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর ধামরাইয়ে ইউএনও হিসেবে পদায়ন হন খান মোহাম্মদ সালমান হাবিব। এবার পাঁচ মাসের মধ্যে তিনিও বদলিজনিত বিদায় নিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ইউনিয়ন পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে এসব পদে দায়িত্ব পালন করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ধামরাইয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারই।
এই পদে ঘন ঘন বদলিতে সেবাপ্রার্থীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু হাসান বলেন, ‘দেশের ঘটনা প্রবাহের প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন উপলক্ষে বদলিজনিত কারণে স্বাভাবিক কাজের ব্যাঘাত ও ধারাবাহিক কাজে শূন্যতা দেখা দেয়। ঘন ঘন বদলিতে স্বাভাবিকভাবেই একটু ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষত গতানুগতিক কাজে গতিও একটু মন্থর হয়ে যায়। নতুন ইউএনও এসে কাজ বুঝতে একটু সময় লাগে। সঙ্গত কারণেই কাজের মধ্যে একটু শূন্যতা দেখা দেয়। এতে সেবাপ্রার্থীরাও কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েন।’
কেকে/এসএ