সরকার নির্ধারিত অফিস সময়সূচি যথাযথভাবে মানছেন না মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়সূচি না মানার এমন চিত্র দেখা যায়।
নির্ধারিত সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ মৎস্য, সমাজসেবা, সমবায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, এলজিইডি, কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচন, আনসার ভিডিপি ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ অন্তত ১৩টি সরকারি দপ্তর রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে অফিসে দেখা যায়নি সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া জামান রত্না, সমবায় কর্মকর্তা রিনাৎ ফৌজিয়া, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলী নূর, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. রইসুল আরেফিন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানাকে।
এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া জামান রত্না জানান, তিনি একদিনের ছুটিতে থাকায় অফিসে আসেননি।
সমবায় কর্মকর্তা রিনাৎ ফৌজিয়াকে দুপুর ১২টার দিকেও অফিসে দেখা যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “সকাল ৯টা ২০ মিনিটে অফিসে এসেছিলাম এবং পরে অফিসিয়াল কাজে বাইরে গিয়েছি।”
তবে অফিসের এক স্টাফ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন, কিন্তু সাংবাদিক আসায় ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
এদিকে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। ওই অফিসে তার অধীনে একজন মাত্র স্টাফ কর্মরত রয়েছেন।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. রইসুল আরেফিন ছুটিতে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফর রহমান।
অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অফিসে আসেন। তিনি জানান, তিনি নিয়মিত সাভার থেকে অফিস করেন এবং সড়কে যানজটের কারণে তার দেরি হয়েছে। স্কুল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বিধায় বাহিরে পরিদর্শনের প্রয়োজন নাই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলী নূর মোবাইল ফোনে জানান, ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে অফিসে এসেছেন।
সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়সূচি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, সেবাপ্রার্থীরা সময়মতো কর্মকর্তাদের সেবা না পাওয়ায় সরকারি সেবা গ্রহণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কেকে/এজে