রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় আলু উত্তোলনের মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে মাঠ থেকে আলু তুলেই বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আলু চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক জায়গায় ক্রেতারা আলুর দাম কেজি প্রতি মাত্র পাঁচ টাকা প্রস্তাব করায় কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
কৃষকরা জানান, আলু চাষে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিক খরচসহ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, বরং বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের খানাটারী গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ (৫৫) বলেন, ‘আলু চাষ করতে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেশি। এখন যদি পাঁচ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করতে হয়, তাহলে আমাদের পরিশ্রমের কোনো মূল্যই থাকবে না।’
একই গ্রামের কৃষক মাসুদ (২৮) বলেন, ‘আমরা অনেক আশা নিয়ে আলু চাষ করেছি। কিন্তু এখন বাজারে এসে দেখি ক্রেতারা কেজিতে পাঁচ টাকার বেশি দিতে চায় না। এই দামে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচও উঠবে না।’
কৃষাণী শারমিন (৩০) বলেন, ‘দিনরাত পরিশ্রম করে আলু চাষ করেছি। কিন্তু যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে সংসার চালানোই কঠিন হবে। আমরা আলু পচিয়ে ফেলব, তবুও কেজি পাঁচ টাকায় আলু বিক্রি করব না।’
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অবগত আছি। বর্তমানে আলুর মৌসুম হওয়ায় ও বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম রয়েছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি করার জন্যও সরকারের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চলছে। রপ্তানির সুযোগ বাড়লে বাজারে আলুর দাম স্থিতিশীল হবে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।’
কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তারা মনে করেন, বাজারে সঠিক নজরদারি ও কৃষকবান্ধব নীতি গ্রহণ করা না হলে গঙ্গাচড়া উপজেলার অনেক কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি চললে আগামী মৌসুমে অনেকেই আলু চাষ থেকে সরে যেতে পারেন, যা ভবিষ্যতে আলু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেকে/এসএ