সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
মৌলভীবাজারে ছয় বছরে ফসলি জমি কমেছে ৭০০ একর
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে গত কয়েক বছর ধরে কৃষি জমিগুলো গিলে খাচ্ছে আবাসন, ইটভাটা, কলকারখানা, সড়ক, দোকানপাট ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান। জেলাজুড়েই ফসলি জমি ভরাট করে বানানো হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান, ইটভাটাসহ অন্যান্য স্থাপনা। আবার কৃষি জমি নিধন করে চলছে পুকুর খননের মহাযজ্ঞ। কৃষি জমি রক্ষায় আইন ও সরকারি বিধিবিধান থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র নির্মাণ হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান। এতে কমছে আবাদযোগ্য কৃষি জমি ও ফসল উৎপাদন। 

জেলার অধিকাংশ জমি দুই ও তিন ফসলি। কৃষি অর্থনীতির বড় অংশজুড়েই জেলার প্রভাব রয়েছে। কৃষি জমি রক্ষায় আইন থাকলেও নেই যথাযথ প্রয়োগ। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, কয়েক বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমি খনন করে পুকুর, ফিশারির পাশাপাশি ভিটাবাড়ি, ইটভাটা, দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে গত ছয় বছরে জেলায় ৭০০ একর কৃষি জমি কমেছে। ২০১৯ সালে জেলায় কৃষি জমির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩১ একর। ২০২৪ সালে তা কমে হয় ৪ লাখ ২২ হাজার ৮ একর। 

ভূমি ব্যবহার ও সেচ পরিসংখ্যান জরিপ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে ২০১৯-২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি কমেছে। জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, সদর উপজেলাসহ বড়লেখার হাকালুকি, হাইল, কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি ভরাটের মহোৎসব দেখা গেছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়কের পাশে জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতঘর ও  দোকানপাট। এমনকি হাওরের জমিও ভরাট করা হচ্ছে। মানা হচ্ছে না কোনো নিয়ম বা ভূমি সুরক্ষা আইন। কয়েক বছর আগেও যেসব জমিতে তিন ফসল হতো, সেসব এখন ভরাট হয়ে গেছে। এসব জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বসতঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এতে একদিকে কমছে ফসলি জমি, অন্যদিকে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। এছাড়া অনেক জমির মালিক অল্প কিছু টাকার জন্য জমির ওপরের স্তরের মাটি কেটে বিক্রি করছেন বিভিন্ন ইটভাটার মালিকদের কাছে।

আইন অনুসারে, 

ব্যক্তি মালিকানাধীন বা যেকোনো জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিতে হয়। সড়কের পাশে বাড়িঘর নির্মাণ করা হলে অবশ্যই জায়গা রেখে স্থাপনা তৈরি করতে হবে। 

কৃষি জমিতে নানা স্থাপনা গড়ে তোলা ব্যক্তিদের মতে, এখন জমিতে কৃষি চাষ করে লাভ হয় না। এর চেয়ে জমি ভরাট করে দোকান বা বাড়ি নির্মাণ করলে একদিকে জমির দাম বাড়ে, অন্যদিকে ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া অনেকের আগে পরিবারের সদস্য সংখ্যা কম ছিল, যা এখন বেড়েছে। এ জন্য অনেকে নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করছেন। 

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মুহাইমিন মিল্টন বলেন, ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন থাকলেও এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই আমাদের দেশে। এই আইন অল্প পরিসরে বাস্তবায়িত হলেও কিছুটা কৃষি জমি রক্ষা করা যেত। যেভাবে জমি ভরাট করা হচ্ছে, তাতে করে একসময় খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে। সময় যত যাচ্ছে, কৃষিজমি ভরাটের প্রবণতা বাড়ছে। যে যার ইচ্ছেমতো এই কাজ করছে।’

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘দিন যত যাচ্ছে জেলায় বিভিন্ন স্থাপনা বাড়ছে। কমছে কৃষি জমি। এভাবে জমি কমলে হুমকিতে পড়বে ফসল উৎপাদন। দেশে কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে কৃষি জমি রক্ষা করা যেত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। অনেকের পরিবার বড় হয়েছে, এ জন্য নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন হচ্ছে। আমাদের সবাইর্কে মিলে কৃষি জমি রক্ষা করে স্থাপনা তৈরি করতে হবে। আমাদের দেশে কৃষি জমি ভরাটের বিষয়ে আইন হলো, স্থাপনা নির্মাণের আগে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। তবে, এই আইন কেউ মানতে চান না।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মৌলভীবাজার   ফসলি জমি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close