কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর-পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৮) হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর-পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতির পরিবার জানায়, যখন স্মৃতি দশম শ্রেণিতে পড়ত, তখন থেকেই আকরাম হোসেন তাকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করতেন। একপর্যায়ে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু স্মৃতি এতে রাজি না হওয়ায় তাকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তী কৌশলে স্মৃতিকে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলে আকরাম।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩ জুন গভীর রাতে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ঘর থেকে বের করে স্মৃতিকে অপহরণ করে আকরাম ও তার সহযোগীরা। পরে পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তখন কটিয়াদী থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল।
সুমাইয়া আক্তার স্মৃতির ফুফু তানজিমা আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে স্মৃতির জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। আকরাম হোসেন প্রায়ই স্মৃতির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এমনকি স্মৃতির ব্যবহৃত স্বর্ণালংকারও একে একে বিক্রি করে দেন তিনি। এতে বাধা দিলে স্মৃতির ওপর নেমে আসত আরও নির্যাতন। এরই মধ্যে গত ৪ মার্চ ভোররাতে আকরাম হোসেনের ঘর থেকে স্মৃতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।’
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা।
তাদের অভিযোগ, স্মৃতিকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর জন্য ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
নিহতের দাদি হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘আমার নাতনিকে প্রথমে অপহরণ করে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা গোপন করে পুলিশ এ ঘটনায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি আমরা। বর্তমানে অভিযুক্ত আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা মীমাংসার জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
কেকে/এমএ