নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতের হামলার কবলে নদীতে ঝাঁপ দেন দুই জেলে। এ সময় চানু মিয়া নামে এক জেলে সাঁতরে তীরে উঠলেও তার ভাতিজা হেদায়েতুল্লাহ (২২) নিখোঁজ হন।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে ঘটনার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নিখোঁজ হেদায়েতুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হেদায়েতুল্লাহ উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরেরচর এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১২টার দিকে চানু মিয়া তার ভাতিজা হেদায়েতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ফকিরের চর থেকে পশ্চিম দিকে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে যান। এ সময় দ্রুতগতির একটি স্পিডবোট তাদের নৌকার কাছে এসে থামে। স্পিডবোটে থাকা একদল ডাকাত দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসে। ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পেতে চানু মিয়া ও হেদায়েতুল্লাহ নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে চানু মিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও হেদায়েতুল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যান।
এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা গুলি ছুড়ে বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার বিকালে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে হেদায়েতুল্লাহর মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয়রা মরদেহটি উদ্ধার করেন।
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য জালাল মিয়া বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ হেদায়েতুল্লাহর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। শনিবার বিকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত হেদায়েতুল্লাহর শরীরে একাধিক গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় ফকিরের চরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।’
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির শরীরের বাম পাশে কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।’
কেকে/এসএ