গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীর দুই এটেনডেন্টকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে ও শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মামুন (৩০)। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার রাওনাত গ্রামের বাসিন্দা।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, অভিযুক্তকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে।
তিনি জানান, হাসপাতালের তিন তলায় গত বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে ১৫ বছর বয়সী এক নারীকে বারান্দায় নিয়ে একই ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী মামুন (৩০) শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে শুক্রবার দুপুরে একই ব্যক্তি হাসপাতালের নিচে একটি নির্জন স্থানে সাত বছর বয়সী এক শিশুকেও নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী নারীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে হাসপাতালের বারান্দায় নিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়। রাতের অন্ধকারে তাকে জোর করে ধরার চেষ্টা করে। তার চিৎকারে আমি গিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এ বিষয়ে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি।’
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ‘হাসপাতালে ১৫ বছর বয়সী এক নারীকে শ্লীলতাহানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী নারী অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সাত বছর বয়সী শিশুকে শ্লীলতাহানির বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ দিকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য’ উল্লেখ করে জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনের সাংসদ সালাহ উদ্দিন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে ঘৃণ্য ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
কেকে/এসএ