সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎপর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রণয় ভার্মা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা স্মরন করে দুই দেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে নিতাই রায় বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়সহ এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনেক মিল রয়েছে।’
‘দুই দেশই প্রাচীন সভ্যতার ধারক হিসেবে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বহন করছে।’
নিতাই রায় আরও বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব, লোকসংস্কৃতি, সৃজনশীল শিল্প, জাদুঘর ও গ্রন্থাগার কার্যক্রমে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিময় কর্মসূচি জোরদার করা যেতে পারে।’
তিনি পহেলা বৈশাখ উদযাপন, লালন শাহের দর্শন ও সংগীতধারা, কুঠিবাড়ি ও হাসন রাজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একইসঙ্গে নিতাই রায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রণয় ভার্মা টেক্সটাইল আর্ট, জাদুঘর কার্যক্রম, থিয়েটার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও সংরক্ষণে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া দুই দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
দুই বাংলার লেখক সম্মিলন, পয়েট্রি কনফারেন্স এবং শিক্ষাভিত্তিক ও যুবসংস্কৃতি কার্যক্রমের বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের তরুণদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করা সম্ভব বলে প্রণয় ভার্মা মনে করেন।
বৈঠকে আলী নেওয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণ একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক।’
তিনি সংগীত, শিল্পকলা ও লোকসংস্কৃতির ক্ষেত্রে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক দলের পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মফিদুর রহমান, যুগ্ম সচিব ইলিয়া সুমনা এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ