মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৭ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু করেছে বিএনপি সরকার। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। মঙ্গলবার পাইলট কর্মসূচিতে দেশের ১৪ স্থানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করেছে সরকার। 

এদিন রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি দৃঢ়ভাবে উচ্চারণ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না। 

শুধু এই প্রতিশ্রুতি নয়, আমরা আরও কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। তার মধ্যে যেগুলো আমাদের প্রায়োরিটি প্রজেক্ট ছিল, তার মধ্যে আরেকটি আছে ‘কৃষক কার্ড’। সেই কৃষক কার্ডের কাজও আমরা শুরু করেছি। আমরা আজ যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি, ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি আমরা পেছনে রাখি, তাদের যদি ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে আমরা ক্ষমতায়ন না করতে পারি, তাহলে অবশ্যই দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না।

তিনি বলেন, আগে বিএনপি সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময় সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা, স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে এমপাওয়ার করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার, সরকার গঠনের আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কীভাবে নারীদের আমরা ক্ষমতায়ন করব, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলব। তারই অংশ হিসেবে আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমেভাবে ইনট্রোডিউস করা শুরু করলাম। 

তারেক রহমান বলেন, সরকারের কিছু নিয়ম-নীতির অংশ হিসেবে প্রথমেই পাইলট প্রজেক্ট করতে হয়। সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করেছে। আমাদের কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা এই তিনটি এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাংলাদেশে যে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে, পরিবারে যারা নারী প্রধান, তাদের কাছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকলের কাছে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হব। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশে জবাবদিহি-প্রতিনিধিমূলক একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকারকে এই দেশের মানুষ নির্বাচিত করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। তিনি বলেন, সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই। তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব। বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে গত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের এই প্রতিশ্রুতি, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করব। গত সপ্তাহে সেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ সরকারের পক্ষ থেকে করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। একে একে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমিকভাবে যে কোনো মূল্যে পূরণের চেষ্টা করব।

তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য আজকের দিনটি খুবই ইমোশনাল। কারণ এখানে আজকে যারা অতিথি উপস্থিত আছেন, এখানে কিছু মানুষ উপস্থিত আছেন যাদের সাথে বিগত অনেকগুলো বছর ধরে আমি বসে বসে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি যে কীভাবে যখন সময় আমরা পাব, সুযোগ পাব জনগণের সমর্থন পাব, সেই ফ্যামিলি কার্ডটিকে আমরা বাস্তবায়ন করব। আজকে আমাদের সেই দিনটি উপস্থিত যে দিনে আমরা আমাদের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছি। আমার সরকার এবং আমার দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং একটি ইমোশনাল দিন। 

তিনি বলেন, এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক। সেটি আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু একই সাথে আমরা যদি বাস্তবতা বিবেচনা করি এবং সমসাময়িক ঘটনা, মধ্যপ্রাচ্যের যে পরিস্থিতি, সবকিছু যদি বিবেচনা করি, তাহলে আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র আমরা অবস্থান পরিবর্তন করব না। হয়তো সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষ হয়তো আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য। আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসীকে আমি অনুরোধ করব আসুন আমরা ধৈর্যের সাথে সমগ্র পরিস্থিতি মোকাবিলা করি। আমরা ধৈর্যের সাথে সুন্দরভাবে আমাদের এই দেশটিকে গড়ে তুলি।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের এই উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পরবর্তীতে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি একটি ইউনিভার্সাল সিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের নাগরিক হলেই তিনি এই কার্ড পাওয়ার অধিকারী হবেন।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এসব কর্মসূচিকে ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত বা ইন্টিগ্রেটেড ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ফ্যামিলি কার্ড সেই সমন্বিত ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এ কর্মসূচির আওতায় অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সরাসরি সুবিধা পাবেন। তবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারও কার্ড পাবেন, যদিও তারা সরাসরি আর্থিক সুবিধা নেবেন না। তাদের কার্ডে কিউআর কোড থাকবে, যার মাধ্যমে তারা চাইলে রাষ্ট্রকে অর্থ দান করতে পারবেন, যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ নীতির ভিত্তিতে একটি একক কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের জন্য সরকারের বিভিন্ন সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নারীশিক্ষা ও ক্ষমতায়নের যে পথ তৈরি করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, পরিবার একটি সমাজের মূল ভিত্তি এবং সেই পরিবারের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন একজন নারী। একজন মা-ই সন্তানের মধ্যে শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও অধ্যবসায়ের বীজ বপন করেন। পরিবার থেকেই সমাজ পরিবর্তনের সূচনা হয়। তাই পরিবারকে উন্নয়নের একক ধরে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একই সঙ্গে পরিবারের নারীদের অদৃশ্য শ্রমের স্বীকৃতি দেওয়ারও একটি প্রয়াস।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মধ্যেই প্রকৃত উন্নয়ন নিহিত। আর মানুষের উন্নয়নের ভিত্তি হলো পরিবার। তাই প্রতিটি পরিবারকে উন্নত করতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রতিশ্রুতি   বাস্তবায়ন   ফ্যামিলি কার্ড  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close