বরিশালে গৌরনদী উপজেলায় মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম। উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে তিনি উপজেলা জুড়ে মাইকিং করার নির্দেশনা দেন।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে “উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গৌরনদী” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেওয়া হলে তা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশক্রমে ফেসবুকে পোস্টে বলা হয়, সবার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুল-কলেজগামী কোনো ছাত্রছাত্রী সন্ধ্যার পরে রাস্তার মোড়, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পার্ক কিংবা স্কুল-কলেজের মাঠে আড্ডা দিতে পারবে না। নির্ধারিত সময়ে এসব স্থানে কোনো ছাত্রছাত্রীকে আড্ডারত অবস্থায় পেলে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পোস্টটি দেখে অনেকেই উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানিয়ে ইউএনওকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তি জানান, গৌরনদী উপজেলায় প্রায় শতাধিক মাদক স্পট রয়েছে। বিগত দিনে বিভিন্ন মাদক স্পটে অভিযান হলে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন বিক্রি ও বহনের সময়, যাদেরকে এলাকাবাসী চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে চেনে। কিন্তু ওই সব স্থানে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযান বা গ্রেপ্তারের ঘটনা দেখা যায়নি। তাই তারা এখনও অবাধেই মাদক বিক্রি করে যাচ্ছে।
সচেতন মহোল মনে করছেন শুধু ছাত্রছাত্রীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে আগে মাদক কারবারিদের বাড়ি এবং যেসব স্থানে মাদক বিক্রি এখনও হয়, সেসব স্থানে একযোগে পুলিশসহ যৌথবাহীনির অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে গৌরনদী মডেল থানায় মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নথি অনুসন্ধান করলে প্রকৃত মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের নাম-ঠিকানা সহজেই পাওয়া যাবে বলে মনে করেন অনেকেই।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের মাইকিংয়ের পর ও দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মাদক স্পটে মাদক বিক্রি করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাইকিং নয়—যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনলে এর কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যাবে না।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “কয়েকজন কিশোরকে ভ্রাম্যমান আদালত গ্রেপ্তারের পর মুছলেকা দিয়ে তাদের পরিবারের লোকজন ছাড়িয়ে নিয়েছে। তবে এখনও কোনো মাদককারবারী গ্রেপ্তার বা কোনো স্পটে অভিযান শুরু হয়নি। অভিযান বা গ্রেপ্তার হলে জানানো হবে।”
কেকে/এজে