সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
দেশজুড়ে
‘বাবা বলেছিলেন, লেখাপড়া করে আমার স্বপ্ন পূরণ করবা’ এখন বাবাই আর নেই!
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম আপডেট: ১২.০৩.২০২৬ ১২:৪৮ পিএম
নিহত প্রবাসী মো. রাসেল মিয়ার পরিবার ও ইনসেটে রাসেল মিয়া । ছবি: প্রতিনিধি

নিহত প্রবাসী মো. রাসেল মিয়ার পরিবার ও ইনসেটে রাসেল মিয়া । ছবি: প্রতিনিধি

“বাবা বিদেশে যাওয়ার আগে বলেছিল—‘মা রে, আমি তো লেখাপড়া করতে পারি নাই। তুমি লেখাপড়া করে আমার স্বপ্ন পূরণ করবা।’ এখন বাবাই আর নেই। আমরা কীভাবে বাঁচব? কীভাবে পড়াশোনা করব?”

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত জাহান সাথী। প্রবাসী বাবা মো. রাসেল মিয়ার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তার কণ্ঠ যেন বারবার আটকে যাচ্ছিল। সৌদি আরবে মঙ্গলবার মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রাসেল মিয়া। 

বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই তার বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরদিন সকাল থেকে হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরি গ্রামে রাসেলের বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। উঠানে নির্বাক হয়ে বসে আছেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। মাঝে মাঝে ডুকরে কেঁদে উঠছেন তারা। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

নিহত রাসেল মিয়া একই এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও চার সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে জীবন কাটাচ্ছিলেন রাসেল। এলাকায় মাটিকাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতেন।

স্ত্রী-সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের আশায় ধারদেনা করে গত বছরের নভেম্বরে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে মাজা আল আরাবিয়া কোম্পানির অধীনে কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন বলেও তারা জানান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই বজ্রপাতে নিভে গেল তার জীবন। রাসেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি।

দুই ছোট মেয়েকে বুকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘স্বামী সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিদেশে গিয়েছিল। এখন বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব? সংসার কীভাবে চালাব? যে টাকা ধার করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম, তা কীভাবে শোধ করব?’

রাসেলের বাবা লিয়াকত আলীও ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। স্বজনদের সহযোগিতায় তাকে সামলাতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘কখনও ভাবিনি আমার ছেলের এমন দশা হবে। আগে জানলে তাকে বিদেশে পাঠাতাম না। এখন শুধু চাই, আমার ছেলের লাশটা যেন দেশে আনা হয়।’

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাসেল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছে না। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানান স্থানীয়রা।

হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিছবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, ‘রাসেল খুবই পরিশ্রমী মানুষ ছিল। পরিবারের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এলাকার সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল আন্তরিক।’

প্রবাসে উপার্জনের স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এক বাবার অকালমৃত্যুতে এখন দিশেহারা তার পরিবার। ছোট্ট সাথীর মনে বারবার ভেসে উঠছে বাবার সেই কথাগুলো—‘লেখাপড়া করে আমার স্বপ্ন পূরণ করবা।’ কিন্তু বাবাকে হারানোর পর সেই স্বপ্ন পূরণের পথ এখন যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close