নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সরকারি হাট-বাজার নিলামের টেন্ডার বক্সে জোরপূর্বক সিডিউল ঢোকানোর অভিযোগে মো. হারুন নামে এক শ্রমিক দল নেতাকে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হারুন (৪২) নোয়াখালী পৌরসভা শ্রমিক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌরসভার উজ্জলপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শহীদ উল্যার ছেলে।
বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ৩৩টি হাট-বাজারের ইজারা নিলামের টেন্ডার জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন ঠিকাদার ও টেন্ডার প্রত্যাশীরা নির্ধারিত চারটি স্থানে স্থাপিত টেন্ডার বক্সে তাদের সিডিউল জমা দেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় থেকে টেন্ডার বক্সগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছিল। এ সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে শ্রমিকদল নেতা হারুন জোরপূর্বক ২-৩টি সিডিউল টেন্ডার বক্সে ঢুকিয়ে দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তকে আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। পুলিশ তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিচতলা থেকে আটক করে। এ সময় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ নেওয়াজ তানভীর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হারুনকে দুই দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
নোয়াখালী জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি গণমাধ্যমকর্মীদের থেকে জেনেছি। দলের সিনিয়র নেতাদের কথা বলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শাহ নেওয়াজ তানভীর বলেন, ‘নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও সে জোর করে টেন্ডার সিডিউল জমা দেয়। যা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।’
কেকে/এসএ