ডার্ড গ্রুপের শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আত্মসাৎ ও আন্দোলন দমন করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে গাজীপুর সিটির চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এক শ্রমিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সমাবেশে ডার্ড গ্রুপের অধিকার বঞ্চিত ও নির্যাতিত শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর মহানগর কমিটির সভাপতি শফিউল আলম।
সমাবেশে সংহতি বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সংগ্রামী কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা হারুন সরকার, মিজানুর রহমান সিকদার, দেলোয়ার হোসেন সরকার, মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, আবুল হোসেন জুয়েল, মোশাররফ হোসেন, আহমেদ শরীফ, আব্দুল মান্নান, লিটন সরকার, রুবিনা আক্তার, জাহাঙ্গীর আলম, মিলনসহ বিভিন্ন ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।
শ্রমিক নেতা শফিউল আলম তার বক্তব্যে বলেন, “২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সময় ও সুবিধা নির্ধারণ করে চুক্তি সম্পাদিত হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত পাওনা এখনো সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা হয়নি। আন্দোলনের চাপে সরকার সুদমুক্ত ১৩ কোটি টাকার লোন প্রদান করেছে, যার মধ্যে মালিকপক্ষ কয়েক দফায় ১১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এখনো প্রায় ২ কোটি টাকা বাকি রয়েছে, এছাড়াও প্রায় ৩২ কোটি টাকা শ্রমিকদের প্রাপ্য।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যেই পালিয়ে থাকা ডার্ড গ্রুপের মালিকদের বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করেছে এবং দুটি শ্রম আদালতে রাষ্ট্রবাদী মামলা দায়ের করেছে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে পালিয়ে থাকা মালিকদের সম্পত্তি বিক্রি করে দ্রুত বাকি পাওনা পরিশোধের আহ্বান জানাই।”
শফিউল আলম অভিযোগ করেন, “কিছু ভাড়াটিয়া শ্রমিক নেতা ও মালিকপক্ষের এজেন্টরা শ্রমিকদের পাওনা আত্মসাতের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব থাকার কারণে গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ঢাকার উত্তরা বিজিএমইএ ভবনের সামনে আল কামরানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। আমি আহত হই এবং তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পাই। তুরাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো মামলা এজাহারভুক্ত হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে শ্রমিক আন্দোলনকে দমন করা যাবে না। আমি বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি এবং বিজিএমইএ ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে জড়িত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ডার্ড গ্রুপের পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা অতীতে রোর ফ্যাশনের শ্রমিকদের পাওনাও আত্মসাৎ করেছে। নেতারা অবিলম্বে ডার্ড গ্রুপের চুক্তি অনুযায়ী অবশিষ্ট সকল পাওনা পরিশোধ ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
তারা অভিযোগ করেন, ফয়েজ আহমেদ এর নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের যন্ত্রপাতি ও মালামাল গোপনে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশের বেশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না, যা বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
কেকে/এলএ