যমুনাপাড়ের জেলা সিরাজগঞ্জ দিয়ে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়কপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করায় রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ বজায় থাকে। যানবাহনের যাত্রীদের যাতায়াত সহজ ও দ্রুত করতে হাটিকুমরুলে ইন্টারচেঞ্জ, সার্ভিস সড়কসহ ১১টি উড়ালসেতু চালু করা হয়েছে। এতে এবারের ঈদযাত্রা ভোগান্তিমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছে হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
জানা যায়, যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। হাটিকুমরুল-বনপাড়া ৫১ কিলোমিটার মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার সংযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদের আগে ও পরে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিকল্প পথ না থাকায় এই মহাসড়কই মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ হওয়ায় ঈদকে কেন্দ্র করে অতীতে এখানে তীব্র যানজট দেখা দিত।
বিশেষ করে হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে ভোগান্তিতে পড়তেন ঘরমুখো মানুষ ও চালকেরা। তবে নতুন ইন্টারচেঞ্জ ও উড়ালসেতু চালু হওয়ায় যানবাহন চলাচল এখন অনেক বেশি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও যমুনা সেতুতে টোল প্লাজা পার হয়ে একসঙ্গে বেশি যানবাহন প্রবেশের কারণে অনেক সময় চাপ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন বা লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে যানজট আরও বাড়ে, যা ঈদযাত্রায় বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
বাস ও ট্রাকচালকেরা জানান, উত্তরবঙ্গের মহাসড়কে এবার বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা নেই। তবে মহাসড়কের কিছু স্থানে ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে গাড়িতে ঢিল ছুড়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান। মহাসড়কজুড়ে পুলিশের টহল জোরদার থাকলে এসব ঘটনা ঘটবে না বলেও মনে করছেন চালকেরা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে আগে দুটি রেসকিউ গাড়ি ছিল। এবার আরও একটি রেসকিউ গাড়ি যুক্ত করা হয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব সেতুতে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।”
এদিকে হাটিকুমরুল গোলচত্বরে নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জ ও উড়ালসেতু বিভিন্ন জেলায় প্রবেশের পথকে আলাদা করবে। যদিও চলতি বছর সব লেনে কাজ চলমান থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের চার লেনের ১৩টি আন্ডারপাস খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের আগে কাজ আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সাসেক-২ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঢাকা থেকে বগুড়ার দিকে যে লেনটি রয়েছে সেটিকে র্যাম্পিং হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এর অর্ধেক লেন চালু করা হবে। আশা করছি ঈদের সময় এখানে যানজট হবে না।” তিনি আরও বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল একটি বড় ঝুঁকি। দ্রুতগতির বাস ও ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা এসব যান দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ শহর থেকে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত প্রতিদিন শত শত থ্রি-হুইলার চলাচল করে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো দিক দিয়েও মহাসড়কে ওঠেন। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর একসঙ্গে কাজ করলে ঈদযাত্রায় যানজট এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কে কোনো থ্রি-হুইলার চলতে দেওয়া হবে না। ঈদের সময়ে তো প্রশ্নই আসে না। কয়েকটি সার্ভিস লেনে চললেও মূল মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। দীর্ঘ সময় ছুটি থাকায় এবার বড় ধরনের যানজট হবে না বলেই আশা করছি। ইতোমধ্যে মহাসড়কের নিরাপত্তায় প্রায় ১৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।”
সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। যানজট দূর করতে সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সড়কে কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে মহাসড়ক সচল রাখা হবে। উদ্ধারকারী রেকার ও টিম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রস্তুত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে এ বছর উত্তরাঞ্চলের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক।”
কেকে/এলএ