বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সংগঠনটির দায়িত্বে থাকা সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির-এর নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গত ১ মার্চ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলের ভেতরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যে কোনো সময় বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদের আগে কিংবা ঈদের পর সুবিধাজনক সময়ে নতুন কমিটি অনুমোদন করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে কমিটি ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব ঘিরে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা অনেক ছাত্রনেতা এখন নানা পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ড বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। সে কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা, মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা এবং দলের প্রতি আনুগত্যসহ নানা বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে তিনি সরাসরি খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ছাত্রসমাজে গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য দলীয় পর্যায়ে আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান (সাবেক ভিপি প্রার্থী), ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহসভাপতি এইচ এম আবু জাফর, রিয়াদ রহমান, খোরশেদ আলম সোহেল, সাফি ইসলাম, আরিফুল ইসলাম আরিফ।
এ ছাড়া সিনিয়র হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সহসভাপতি জহির রায়হান আহমেদও আলোচনায় আছেন। নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ, হাসানুর রহমান, সালেহ মোহাম্মদ আদনান। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আলোচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা রাজু আহমেদ, সোহেল রানা ও ইব্রাহিম খলিল, মাসুদুর রহমান, বায়েজিদ হোসেনের নাম।
এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জুনিয়র কমিটি হলে কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, তারিকুল ইসলাম তারিক, তারেক হাসান মামুনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাবি ছাত্রদলের নেতা আবিদ ও হামিমের নামও উঠে আসছে আলোচনায়।
ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতারা বলেন, অতীতে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও সন্তুষ্ট হবেন। সংগঠন ও সাংগঠনিক অভিভাবক চাইলে যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব।
বিশেষ করে সভাপতি পদে কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম সংগঠনের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই মুখ খুলতে চাইছেন না।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনে নতুন গতি আসবে। দীর্ঘদিন পর নতুন নেতৃত্ব আসায় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার হবে এবং আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কেকে/এজে