ঠাকুরগাঁওয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১২টি বাড়িসহ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের ইসলাম নগর খানকা এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হরিনারায়নপুর মৌজাস্থ ৩৮ শতক জমি দলিলমূলে ক্রয় করে বসবাস করে আসছে ১২টি পরিবার। জমিটি এসএ রেকর্ডে ডাঙ্গা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত জমিতে বসবাসকারী সৈয়দ আবু কায়েস বলেন, ‘জমিটি আমরা প্রকৃত মালিকের নিকট হতে দলিলমূলে ক্রয় করে দীর্ঘদিন যাবত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে মৃত নাসির উদ্দিনের পুত্র নুর ইসলাম (৫০), আব্দুল হামিদের পুত্র আব্দুল বারেক (৪৫) ও ভূমিদস্যু খ্যাত মাসুদ আমাদের ক্রয়কৃত জমিটি কবরস্থান ছিল মর্মে দাবি করেন। তারা আমাদেরকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। আমরা জমিটি যখন ক্রয় করেছিলাম, তখন সেখানে কোনো কবর ছিল না। নিরুপায় হয়ে আমি নুর ইসলাম, আব্দুল বারেক ও মাসুদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি।’
জমির বিক্রেতাদের একজন আবুল কাশেমের ছেলে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রায় ২৯ বছর পূর্বে আমার বাবা ও চাচারা জমিটি বিক্রি করেন। বর্তমান ভোগদখলকারীরা তা ক্রয় করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে তাতে বসবাস করে আসছেন। এখানে কোনো কবরস্থান ছিল না।’
ভুক্তভোগী সৈয়দ আবু কায়েস প্রদর্শিত কাগজপত্রে দেখা যায়, গত বুধবার (১১ মার্চ) ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম ফেরদৌস উক্ত জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসিকে লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
একই দিন উক্ত আদেশের আলোকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার এএসআই মোহাম্মদ আলী বিবাদীগণকে নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আদালতের আদেশ অমান্য করে উক্ত জমিতে আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে আদালতের আদেশের দিনই বিবাদীরা জমিতে জোরপূর্বক প্রাচীর নির্মাণ করেছে। আমরা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তারা কাজ বন্ধ করে চলে যায়। পুলিশ চলে যাওয়ার পরই আবার তারা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করতে থাকে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে আমরা সর্বদা তৎপর আছি। কেউ যদি আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজ করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কেকে/এসএ